দৌলতপুর প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব অধ্যাপক রেজাউর রহমান মাসুমের রাজনৈতিক কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার হোসেনাবাদ হিসনাপাড়া এলাকায় যুবদল নেতার দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের এ ঘটনা ঘটে। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০-১২ জনের একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে যুবদল নেতা অধ্যাপক রেজাউর রহমান মাসুমের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর শেষে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এসময় হামলাকারীরা দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা শরীফ উদ্দীন জুয়েলের ছবি সম্বলিত ব্যানার ও পোস্টার এবং কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাংচুর শেষে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এতে দলীয় কার্যালয়ের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি দলীয় নেতাদের দাবি, ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন ঘটিয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে তারা জানিয়েছেন। এ ঘটনার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও পিএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক রেজাউর রহমান মাসুম বলেন, আমার রাজনৈতিক কার্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। এর আগেও আমার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবিদ হাসান মন্টি সরকার বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ কখনোই এ ধরনের ন্যক্কারজনক কর্মকান্ডকে সমর্থন করে না। দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে যারা এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করি। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, বিএনপির একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনার কথা শুনেছি। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
