দৌলতপুরে শিশুর পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য নিশ্চিতকরণে অভিভাবকদের করণীয় বিষয়ক আলোচনা সভা

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

দৌলতপুর প্রতিনিধি \ ‘সুস্থ সবল আগামী চাই, পুষ্টিকর খাবারের বিকল নাই’ এই স্লোগানে শিশুর পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য নিশ্চিতকরণে অভিভাবকদের করনীয় বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চত্বরে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার এ এস এম কামরুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউর রহমানসহ সহকারী শিক্ষকবৃন্দ ও অভিভাবকগণ।

সভায় প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকবৃন্দ মনে করন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার অন্যতম একটি  কারণ হলো শিশুদের পুষ্টিহীনতা। পরিমিত পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্যের অভাবে শিশুরা বিদ্যালয়ের শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রমে শতভাগ মনোযোগী হতে পারে না, বিদ্যালয়ে গমনে অনিহা, পাঠে অমনোযোগী সহ বিভিন্ন মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতায় ভূক্তভোগী হয়।  বিধায় শিখনফল অর্জন ও শ্রেণিভিত্তিক অর্জন উপযোগী যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয় এবং কালক্রমে তারা বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়তে থাকে। সভায় শিশুদের পুষ্টিকর ও  সুষম খাদ্য নিশ্চিত করণে মায়েদের কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় সে বিষয়ে মা ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত গ্রহণ ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। এছাড়াও আলোচনা সভায় শিশুদের খাবার খাওয়ানোর সময় মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উঠে আসে। আলোচনা সভার প্রধান অতিথি উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার এ এস এম কামরুজ্জামান বলেন, দেশে প্রতি তিনজন শিশুর মধ্যে একজন পুষ্টিহীনতায় ভুগে এবং পুষ্টিহীনতার জন্য বিভিন্ন শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। মায়েদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, শিশুর মোট খাবারে চারভাগের দুই ভাগ বিভিন্ন রঙিন শাকসবজি থাকতে হবে, চার ভাগের একভাগ শর্করা জাতীয় খাবার এবং চারভাগের একভাগ প্রোটিন বা আমিষ থাকতে হবে। এছাড়া অতিরিক্ত তেল ও মসলা জাতীয় খাবার সহ জাঙ্কফুড জাতীয় খাবার ও চিনি বা অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার শিশুদের জন্য ক্ষতিকর যা শিশুদের মেধা শক্তির হ্রাস করে। তাই আমাদের সকলকে শিশুদের খাবার প্রতি বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে। কেবল মায়েরাই পারে তাঁর শিশু সন্তানকে সঠিক ও পরিমিত পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে।