সাইবার স্পেসেও মাদক-বাণিজ্যের শাস্তি মৃত্যুদন্ড, সংসদে বিল পাস

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

ঢাকা অফিস \ সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচা, সরবরাহ ও প্রচারের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড বা যেকোনো মেয়াদের কারাদন্ড এবং ২০ লাখ টাকা অর্থদন্ডের বিধান রেখে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলের ওপর আনা জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি শেষে কণ্ঠভোটে এটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। সংসদীয় কমিটির বিশেষ সুপারিশের ভিত্তিতে আইনের মূল কাঠামোতে এই নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে।  পাস হওয়া বিলের বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা সাইকোঅ্যাক্টিভ সাবস্টেন্সের অবৈধ ক্রয়, বিক্রয়, সরবরাহ, প্রস্তাব, বিজ্ঞাপন, মধ্যস্থতা ও যোগাযোগ করেন বা করার চেষ্টা করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি (যেমন বিটকয়েন) ইত্যাদি ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করাও অপরাধের শামিল হবে। নতুন আইনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এই সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীর কাছ থেকে সরাসরি মাদকদ্রব্য উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে না; ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ ও লেনদেনের ওপর ভিত্তি করেই বিচার করা যাবে। এই অপরাধের সাজা হিসেবে যেকোনো মেয়াদের কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ মৃত্যুদন্ড ও অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিলের একটি ধারায় বলা হয়েছে, এই ধরনের অপরাধ যদি আন্তর্জাতিকভাবে বা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের মাধ্যমে সংঘটিত অথবা পুনঃসংঘটিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেকোনো মেয়াদের কারাদন্ডে অথবা অনূর্ধ্ব ৫০ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। এ ছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস বা ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ইত্যাদি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের বা ক্ষেত্রবিশেষে, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের আদেশক্রমে ব্লক, অপসারণ, জব্দ, বাজেয়াপ্ত বা রাষ্ট্রের অনুকূলে ন্যস্ত করা যাবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই অপরাধের বিস্তার রোধে নতুন বিধানের পাশাপাশি বিলে এখতিয়ারসম্পন্ন সাধারণ আদালতে বিচারের বিদ্যমান বিধান অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের মাদকসংক্রান্ত অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পৃথক ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার বিধানটি পুনরায় সংযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুকূলে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার এবং চোরাচালান ও মাদক চিহ্নিত করতে বিশেষ ‘ডগ স্কোয়াড’ গঠনের আইনি বিধানও বিলে যুক্ত করা হয়েছে। বিলের ওপর আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক কেনাবেচায় খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ এসেছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হচ্ছে না এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।