খোকসা প্রতিনিধি \ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আশুলিয়ার নবীনগর এলাকায় যৌতুকের দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা না পেয়ে এক গৃহবধূকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই গৃহবধূ বর্তমানে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় গত ১৫ জুলাই আশুলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা (নং-৬৯) দায়ের করা হয়েছে। মামলার অভিযুক্ত বিদ্যুৎ কুমার দত্ত (৪২) রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাইম ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার কালীবাড়ি এলাকার নিরোদ কুমার রায়ের মেয়ে শিউলি রানী রায়ের (৩২) সঙ্গে প্রায় সাত বছর আগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আমলাপাড়া এলাকার রমণ কুমার দত্তের ছেলে বিদ্যুৎ কুমার দত্তের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকার মিরপুর-১ নম্বর মাজার রোড এলাকায় বসবাস শুরু করেন। অভিযোগে বলা হয়, গত এক বছর ধরে বিদ্যুৎ কুমার দত্ত ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। দাবিকৃত অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় শিউলি রানী রায়কে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১২ জুলাই সকালে যৌতুকের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে শিউলিকে মারধর করা হয়। পরে রাতে তাকে বাবার বাড়ি কুষ্টিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার নবীনগর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গলফ ক্লাবের সামনে পৌঁছালে তাকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর তাকে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে অভিযুক্ত পালিয়ে যান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় পথচারীরা শিউলি রানী রায়কে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে ১৫ জুলাই আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় শিউলি রানী রায়ের পিতা নিরোদ কুমার রায় বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ১১(ক) ধারায় মামলা করেন। আশুলিয়া থানার দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা রুজু করা হয়েছে। ভুক্তভোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
