বাজার স্বল্পতায় কুষ্টিয়া পৌরবাসীর অন্তহীন ভোগান্তি

জনসংখ্য বেড়েছে, কিন্তু বাড়েনি বাজার

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

 

নিজ সংবাদ \ দেশের অন্যতম প্রাচীন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জনপদ কুষ্টিয়া শহর। ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কুষ্টিয়া পৌরসভা। সময়ের সাথে শহরের আয়তন ও জনসংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু নাগরিক সেবার মান বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় মাছ, সবজি ও তরিতরকারির বাজার ব্যবস্থাপনায় শহরটি এখনও অনেক পিছিয়ে। প্রায় ৪৩ বর্গকিলোমিটারের এই শহরে বর্তমানে দুই লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। অধিকাংশ নাগরিক এখনও মিউনিসিপ্যালিটি বাজার, বড় বাজার ও রাজারহাটের উপর নির্ভরশীল। কুষ্টিয়া মিউনিসিপ্যাল মার্কেটে বাজার করতে আসা তিতাস দাস বলেন, “জনসংখ্যা বাড়লেও বাজারের সংখ্যা বাড়েনি। ফলে সবাইকে এই কয়েকটি বাজারের উপর নির্ভর করতে হয়। এটা অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফল।” টিংকু আহমেদ জানান, “শহরবাসী শুধু মিউনিসিপ্যাল ও বড় বাজারের উপর নির্ভরশীল, যা বিরাট ভোগান্তির কারণ। চৌড়হাস, মিলপাড়া ও মজমপুর গেট এলাকায় যেসব বাজার বসে, সেগুলো পৌরসভার সঠিক তত্ত্বাবধানে আনলে জনগণ উপকৃত হবে।” শহরের কয়েকটি স্থানে স্বল্প পরিসরে বাজার গড়ে উঠলেও দোকান সংখ্যা খুব কম। ফলে যাচাই-বাছাই করে ন্যায্য মূল্যে ভালো পণ্য কেনার সুযোগ সীমিত। ক্রেতা সাকিব বলেন, “বাজারের সংখ্যা কম এবং স্পেস ছোট। স্পেস বড় করলে জনগণ সুবিধা পাবে।” কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সাবেক নেতা শহীদ মুসা মঞ্জু বলেন, “জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে চাইলে বিদ্যমান বাজার ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এলোমেলো বাজারগুলোকে সঠিক নজরদারির আওতায় আনতে পৌর কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে।” পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, বাজার গড়ে ওঠে মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী। কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, “মিউনিসিপ্যাল বাজার সবচেয়ে বড় হলেও রাজারহাট ও বিআইডিসি বাজারসহ আরও কয়েকটি পুরনো বাজার রয়েছে। মানুষের চাহিদার ভিত্তিতেই বাজারের উন্নয়ন ঘটে। জমির স্বল্পতা ও পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা থাকলেও এলোমেলো বাজারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নাগরিক ও ব্যবসায়ী মহলের দাবি—পুরনো এই শহরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও জনবান্ধব বাজার কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। তাহলে ক্রেতারা ন্যায্য দামে মানসম্পন্ন পণ্য কিনতে পারবেন এবং সামগ্রিক নগর অর্থনীতিও লাভবান হবে।