বাগেরহাটে মাজারের দিঘিতে কুমির টেনে নেওয়া শিশুর লাশ উদ্ধার

বুধবার, জুন ৩, ২০২৬

 

ঢাকা অফিস \ বাগেরহাটের খান জাহান আলীর (রহ) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের টেনে নিয়ে যাওয়া শিশু ফাতেমা আক্তারের (৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন ) ভোরে মহিলা ঘাটের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। দুপুর ১২টায় শিশুটির জানাযা শেষে দিঘির পূর্ব-দক্ষিণ পাড়ে কবরস্থানে দাফন করা হয়। সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে খান জাহান আলীর (রহ) মাজার সংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশে নারীদের ঘাটে গোসল করতে নামলে শিশু ফাতেমা আক্তারকে (৭) মাজারে থাকা একমাত্র কুমিরটি টেনে নিয়ে যায়। চারদিকে চিৎকার চেচামেচি শুরু হয়। স্থানীয়রা মাজারের মধ্যে নৌকা নামিয়ে শুরু করে উদ্ধার অভিযান। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, জেলা প্রশাসন অংশ নেয় উদ্ধার অভিযানে। ফাতেমা আক্তার মাজারে ভবঘুরে হিসেবে থাকা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। এর বেশি পরিচয় জানাতে পারেনি মাজার সংশ্লিষ্টরা ও পুলিশ প্রশাসন। প্রত্যক্ষদর্শী ফাতিমা নামের এক নারী জানান, রাতে ওই ঘাটে অনেক লোকজন ছিল। মেয়েটি গোসলে নামলে তাকে কুমিরে টেনে নিয়ে যায়। মেয়েটি ও ঘাটে থাকা লোকজন চিৎকার-চেচামেচি করে বলে আম্মু আমাকে কুমিরে ধরেছে। এরপর দুই হাত উচু করা অবস্থায় কুমিরটি তাকে পানির নিচে নিয়ে যায়। ঘাটের পাশে থাকা দোকানি বিনা বলেন, ‘মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরের কয়েক জায়গায় কুমিরের কামড়ের দাগ রয়েছে।’ মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে জানাযা শেষে দাফন করা হয়েছে।’ বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘সকলের সাথে আলোচনা ও সভা করে মাজারের দিঘির ঘাটগুলো সুরক্ষিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাতে ভবিষ্যতে কোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।’ ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে তার জন্য ঘাট দুইটিতে ফেন্সিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান স্থানীয় সাংসদ শেখ মনজুরুল হক রাহাদ।