সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুর ইজারা বাতিল চেয়ে স্মারকলিপি প্রদান

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

কুমারখালী প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে কুমারখালীর সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুতে টোল বন্ধের দাবিতে ঘোষিত আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা। তবে সেতুর ইজারা বাতিল চেয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর ২টার দিকে আন্দোলন স্থগিত করে স্মারকলিপি দেন তাঁরা। এ সময় থানার ওসি জামাল উদ্দিন, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব মো. আসাদুজ্জামান খান আলীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় তাঁরা টোল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করে। সেখানে তাঁদের ওপর ঠিকাদের লোকজন হামলা করলে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে কুমারখালী বাসস্টান্ড সংলগ্ন গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। প্রায় দেড়ঘণ্টা সড়ক বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন যানযট সৃষ্টি হয়। পরে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি দিয়ে অবরোধ তুলে নিয়েছিলেন। স্মারকলিপিতে তাঁরা জানান, ২০০৪ সালে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুটি নির্মাণ হয়। ২০২৪ সাল পর্যান্ত প্রায় ১৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। সেতুটি নির্মাণ ব্যয়ের কয়েক গুণ টাকা উঠার পরেও টোল অব্যাহত থাকায় এলাকার মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। ২০২৪ সালের ৬ আগষ্ট ছাত্র দজনতার আন্দোলনের মুখে টোল উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে প্রায় ২১ মাস টোল আদায় বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক কয়েকবার দরপত্র আহবান করলেও ছাত্রজনতার আন্দোলনের মুখে তা পণ্ড হয়ে যায়। কিন্তু এবার অতি সংগোপনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে দরপত্র কাজ সম্পন্ন করে সওজ। কিন্তু আন্দোলনের মুখে নির্দিষ্ট সময়ে তাঁরা টোল আদায় করতে পারেনি। পরে প্রশাসন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য টোল আদায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবুও কি কারণে ১৮ মে রাত থেকে পুনরায় টোল আদায় শুরু করা হলো। টোল চালু হওয়ার পর থেকে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছে।’ স্মারকলিপিতে আরও জানায়, বুধবার বিকেলে সর্বস্তরের জনগন অবস্থান কর্মসূচী পালনকালে ইজারাদারের গোন্ডা বাহিনী বে-আইনি অস্ত্র প্রদর্শন করে জনগনকে স্থান ত্যাগের হুমকি প্রদান করে। আন্দোলকারীরা অবস্থা বেগতিক দেখে স্থান ত্যাগ করে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ডে এসে অবস্থান নেন। এতে সড়কে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। নতুন করে আন্দোলন করলে সড়কে ভোগান্তির সৃষ্টি হবে। তাই আন্দোলন স্থগিত করে টোল বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে স্মারকলিপি দেওয়া হলো। সওজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট টোল আদায় বন্ধের দাবিতে টোলপ্লাজায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সেতুতে টোল আদায় বন্ধ ছিল। এতে গত ২১ মাসে অন্ত ১৮ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। আবার টোল চালু করতে গত ১০ মার্চ নতুন করে দরপত্র আহবান করে সওজ। এতে ২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় সেতুতে টোল আদায়ের ঠিকাদারি পেয়েছে কুষ্টিয়ার প্রতিষ্ঠান থ্রি স্টার এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। গত সোমবার রাত থেকে দুই – তিন চাকার যানবহন বাদ রেখে টোল আদায় শুরু করেন ঠিকাদারের লোকজন। জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব মো. আসাদুজ্জামান আলী বলেন, ‘ আন্দোলন করলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সেজন্য তা স্থগিত করে আইনগতভাবে টোলের ইজারা বন্ধের দাবিতে ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কর্তারা জনস্বার্থে পদক্ষেপ না নিলে আদালতে যাওয়া হবে।’

ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুর টোল ও ইজারা বন্ধ চেয়ে আন্দোলনকারীরা স্মারকলিপি দিয়েছেন। যথাযত প্রক্রিয়ায় স্মারকলিপির কপি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হবে। বর্তমানে এলাকায় আইন- শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।