কুশিয়ারা নদী থেকে অনুমতির ১০ গুণ বালু উত্তোলনের অভিযোগ

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর চর থেকে অনুমোদনের অতিরিক্ত বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনের কাছ থেকে ৩০ লাখ ঘনফুট বালু মেশানো মাটি উত্তোলনের অনুমতি নিলেও এখন পর্যন্ত অন্তত তিন কোটি ঘনফুট বালু উত্তোলন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এখনও প্রতিদিন নদী থেকে বিপুল পরিমাণ বালু তোলা হচ্ছে।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার দাবিদার কাজী নজরুল ইসলাম বাবুল। অভিযোগপত্রে প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এসএএসইসি-এর আওতায় ঢাকা-সিলেট ছয়লেন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ফার্স্ট গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডকে মাটি ও বালু সরবরাহের চুক্তি দেখিয়ে মা এন্টারপ্রাইজ ভূমি মন্ত্রণালয় ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে অলইতলী এলাকার কুশিয়ারা নদী থেকে ৩০ লাখ ঘনফুট বালু মেশানো মাটি উত্তোলনের অনুমতি নেয়। গত ৪ জুন ড্রেজার ও বাল্কহেড দিয়ে উত্তোলন শুরু হয়।

অভিযোগকারী দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মতিউর রহমান ও তার সহযোগী লুৎফর রহমান সরকারি প্রকল্পে বালু সরবরাহ না করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে তা বিক্রি করছেন। সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের কুশিয়ারা নদীর অন্তত ১৫টি স্থান থেকে অনুমোদিত পরিমাণের কয়েক গুণ বেশি বালু তোলার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯০ হাজার থেকে এক লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। দুই মাসেই উত্তোলনের পরিমাণ ৫০ লাখ ঘনফুট ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরে বড় বাল্কহেডে করে বালু বিভিন্ন এলাকায় পাঠিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ বিভিন্ন বালুমহাল আইনে গত তিন বছরে অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। নবীগঞ্জ, ওসমানীনগর, জগন্নাথপুর ও মৌলভীবাজারের অন্তত ১৫টি মাঠে বালু স্তূপ করে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন।

কাজী নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন, সরকারি রাজস্ব ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

অভিযুক্ত মতিউর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তার সহযোগী লুৎফর রহমান বলেন, তিনি নবীগঞ্জের কসবা মাঠে মতিউর রহমানকে টাকা দিয়ে বালু উত্তোলন করেন।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন বলেন, অবৈধভাবে বালু তোলার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।