আগে খরচ পরে অনুমোদন প্রথার সমালোচনা বিরোধীদলের

সম্পূরক বাজেট নিয়ে সংসদে প্রশ্ন

মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র প্রশ্ন ও সমালোচনা তুলেছেন বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, সরকার আগে অতিরিক্ত ব্যয় সম্পন্ন করে পরে সংসদের অনুমোদন চাওয়ায় সংসদের সাংবিধানিক আর্থিক নজরদারির ক্ষমতা কার্যত আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।

সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেট ও ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জিডিপির আকার বড় হলেও প্রবৃদ্ধি কমেছে, মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। পাশাপাশি অর্থপাচার, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতার ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী রপ্তানি খাতের দুর্বলতা ও অর্থপাচারকে অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে আব্দুল গফুর বলেন, অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। তিনি বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ভর্তুকি খাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিরোধী দলের সদস্যরা ‘আগে খরচ, পরে অনুমোদন’ প্রথা বন্ধ করে ‘আগে অনুমোদন, পরে ব্যয়’ নীতি চালুর দাবি জানান। তারা মনে করেন, অর্থবছরের শেষ দিকে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রবণতা অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ায়।

আলোচনার জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আগে সংসদের অনুমোদন নেওয়া গেলে সংসদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হতো। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।