‘স্পিকারকে পিটিয়ে হত্যা’ নয়, ১৯৫৮ সালে নিহত হন ডেপুটি স্পিকার

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

জাতীয় সংসদে সম্প্রতি ‘স্পিকারকে হত্যা’ নিয়ে দেওয়া বক্তব্য ঘিরে সামনে এসেছে পাকিস্তান আমলের এক রক্তাক্ত অধ্যায়। ২৭ আগস্ট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এই সংসদে একসময় স্পিকারকে হত্যা করা হয়েছিল। পরে ৩০ আগস্ট বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও অতীতের সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, স্পিকারকে পিটিয়ে মারা হয়েছিল।

তবে ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য তথ্য বলছে, নিহত ব্যক্তি স্পিকার ছিলেন না; তিনি ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী।

ঘটনাটি ঘটে ১৯৫৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। সে সময় পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে স্পিকার ছিলেন আব্দুল হাকিম। তাকে অপসারণের উদ্যোগের পর ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে অধিবেশন বসে। এ নিয়ে পরিষদে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে তা ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের সময় কাগজপত্র, পেপারওয়েট, চেয়ার, আসবাব ও মাইক্রোফোনের স্ট্যান্ড পর্যন্ত ছোড়াছুড়ি হয়। একপর্যায়ে শাহেদ আলী মাথায় গুরুতর আঘাত পান। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, শাহেদ আলী ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিক। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে তিনি পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৫৫ সালে ডেপুটি স্পিকার হন।

ঘটনার দায় নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠলেও কে সরাসরি হামলা চালিয়েছিল, তা নিয়ে ঐতিহাসিক বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছিল, তবে এসব দাবিকে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও রাজনৈতিক বয়ান হিসেবে বিবেচনা করাই সতর্ক পদ্ধতি।

তাই সাম্প্রতিক সংসদীয় বক্তব্যের ক্ষেত্রে সংশোধনটি গুরুত্বপূর্ণ—১৯৫৮ সালে স্পিকার আব্দুল হাকিম নিহত হননি; সহিংসতায় গুরুতর আহত হয়ে মারা যান ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী। স্পিকার আব্দুল হাকিম মারা যান ১৯৬৮ সালে।