রাষ্ট্রপতি হয়ে প্রথমবার নিজ জেলায় ফিরছেন মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবের আমেজ

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কাছে এতদিন তিনি পরিচিত ছিলেন প্রিয় ‘আলমগীর স্যার’ নামে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পাওয়া সেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো ফিরছেন নিজের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে। আগামী রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) শুরু হচ্ছে তাঁর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর। তাঁকে বরণ করে নিতে এরই মধ্যে জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ, চলছে আলোকসজ্জা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মী, নাগরিক কমিটি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁকে স্বাগত জানাতে।

স্থানীয়দের কাছে এ সফরের গুরুত্ব কেবল রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। কারও কাছে তিনি জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ, কারও কাছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা, আবার অনেকের কাছে নিজের শহরের সেই পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’। তাই রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নিজ মাটিতে প্রত্যাবর্তন ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে গর্ব, আনন্দ ও আবেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি জেলা সার্কিট হাউসে যাবেন এবং গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।

পরে রাষ্ট্রপতি শহরের সেনুয়া পাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর কালীবাড়িতে নিজ বাসভবনে গিয়ে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম নেবেন।

বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। সেখানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সংবর্ধনা শেষে নিজ বাসভবনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেখানেই তাঁর রাতযাপনের কথা রয়েছে।

সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। দীর্ঘদিন ধরে জেলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। ফলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজ জেলার সন্তান মির্জা ফখরুলের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে সার্কিট হাউসে যাবেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর।

এদিকে সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। এসএসএফ, পিজিআর, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের পথ, কর্মসূচির স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, মির্জা ফখরুল শুধু রাষ্ট্রপতি নন, তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে দীর্ঘদিন পর নিজের মানুষের কাছে তাঁর ফিরে আসা জেলার মানুষের জন্য গর্বের মুহূর্ত।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক জানান, সফরের সব কর্মসূচি সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এর মধ্য দিয়ে তিনি দেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য, বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।