আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো প্রবাস আয়। আর এই আয়ের মূল উৎস বিদেশগামী শ্রমজীবী মানুষ। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় জনশক্তি রপ্তানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে এই খাতে। ফলাফল হিসেবে গত সাত মাস জনশক্তি রপ্তানি কমেছে ৩২ শতাংশ। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন চার লাখ ৮০ হাজার ১০৪ জন। গত বছরের একই সময় গিয়েছিলেন সাত লাখ চার হাজার ৬০৩ জন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে বিদেশে যাওয়া শ্রমিক কমেছে দুই লাখ ২৪ হাজার ৪৯৯ জন। এ পতন প্রায় ৩২ শতাংশ। আমাদের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব, বড় ধসও নেমেছে সেখানেই। চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত সৌদি আরব গেছেন দুই লাখ ৬৭ হাজার ১০৩ জন। গত বছরের একই সময়ে গিয়েছিলেন চার লাখ ৮২ হাজার ৯১৮ জন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে সৌদি আরবে শ্রমিক যাওয়া কমেছে দুই লাখ ১৫ হাজার ৮১৫ জন, অর্থাৎ প্রায় ৪৫ শতাংশ। আরেক বড় বাজার কুয়েতে কমেছে ৩৭ শতাংশ। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশের পরিস্থিতিও সন্তোষজনক নয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে আমাদের অন্যতম বড় শ্রমবাজার সিঙ্গাপুরে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এ বছর দেশটিতে গেছেন ৪৯ হাজার ৫৫৭ জন। গত বছরের একই সময়ে গিয়েছিলেন ৪৪ হাজার ৩৪৮ জন। ইউরোপের দেশ ইতালিতেও কর্মী যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। বাস্তবতা হলো, জনশক্তি রপ্তানি দেশের প্রবাস আয়ের অন্যতম উৎস হলেও দীর্ঘদিনেও এই খাত যুগোপযোগী করা যায়নি। আমাদের রপ্তানি হওয়া জনশক্তির বেশির ভাগই এখনো অদক্ষ। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো (টিটিসি) আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। পাশাপাশি সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে অভিবাসন ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাব বছরজুড়েই থাকতে পারে। বাংলাদেশের মূল সমস্যা শ্রমবাজার যথেষ্ট বিস্তৃত না হওয়া। আমরা মনে করি, চলমান সংকট কাটাতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বন্ধ বাজার চালু এবং নতুন শ্রমবাজার সন্ধানে এই খাতের অংশীজনদের নিয়ে সরকার সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—এটাই কাম্য।