যন্ত্রাংশ দেখিয়ে মোংলা বন্দরে ৪ বিলাসবহুল গাড়ি

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

মোংলা বন্দরে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ ঘোষণা দিয়ে বড় বড় খণ্ডে কেটে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির চেষ্টা শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গাড়িগুলোর সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৬৯০৪। আমদানিকারক ঢাকার গেন্ডারিয়ার ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খুলনার এসটি ইন্টারন্যাশনাল। জাপানের মাহি কার পোর্ট থেকে চালানটি আনা হয়।

এনবিআর জানায়, চালানে ১৪ ধরনের পণ্যের ১৬৪টি প্যাকেজ ছিল। এর মধ্যে ব্যবহৃত দরজা, ইঞ্জিনসহ গিয়ার অ্যাসেম্বল, শক অ্যাবসরবার, হেডলাইট, টেইল লাইট, ফেন্ডার, কেবিন, স্টিয়ারিং হুইল ও বাম্পারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ঘোষণা করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটির খালাস স্থগিত করে কাস্টমস গোয়েন্দা। পরীক্ষার সময় বিআরটিএ ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হয়। গাড়ির বিভিন্ন স্টিকার, লেবেল ও নম্বর বিশ্লেষণের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়িগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

পরীক্ষায় দেখা যায়, যন্ত্রাংশগুলো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়। বরং বৈদ্যুতিক তার, সেন্সরসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংযুক্ত রেখে গাড়িগুলোকে কয়েকটি বড় খণ্ডে কেটে আনা হয়েছে। পুনরায় সংযোজন করলে গাড়িগুলোর মূল কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

শনাক্ত গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৭ মডেলের রেঞ্জ রোভার ভোগ, ২০১০ মডেলের বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, ২০১৬ মডেলের লেক্সাস এলএক্স৫৭০ এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট।

চালানটির ইনভয়েস মূল্য মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার দেখানো হয়েছে। শুল্ক-করসহ পরিশোধযোগ্য অর্থ দেখানো হয় প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। তবে গাড়িগুলো সম্পূর্ণ মোটরযান হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করলে প্রকৃত শুল্ক-কর ও রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ কত হবে, তা নির্ধারণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।