কুষ্টিয়ায় কোরবানির চামড়া শিল্পে প্রস্তুতি ঝলমলে, কিন্তু সংকটে ব্যবসায়ীরা

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

তরিকুল ইসলাম \ আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার চামড়া ব্যবসায়ীরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় লবণ মজুত, গুদাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং শ্রমিক নিয়োগের কাজ প্রায় শেষ। ঈদের দিন থেকেই গরু, ছাগল ও মহিষের চামড়া সংগ্রহের জন্য তারা পুরোদমে প্রস্তুত। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থকরী খাত হওয়া সত্ত্বেও চামড়া শিল্পে সরকারি নজরদারি অপর্যাপ্ত। চামড়া ব্যবসায়ী সাদিকুল হক বলেন, “সারা বিশ্বে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, চামড়ার ব্যবহার কমে যাওয়া এবং আমাদের আন্তরিকতার অভাবে শিল্পটি সংকটে পড়েছে। নতুন সরকারের সদিচ্ছা ও কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এই শিল্পের পুনরুজ্জীবন সম্ভব।” ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, ট্যানারি মালিকরা সময়মতো অর্থ পরিশোধ না করায় ব্যবসায়িক সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে বাবর আলী গেইট এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। লাম্পি স্কিন ডিজিজকে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে চামড়া ব্যবসায়ী শরিফুল হক রাজু বলেন, “এক লাখ টাকার গরুর চামড়া লাম্পির কারণে ৫০-১০০ টাকায় নেমে আসছে, যা বিক্রেতাদের সঙ্গে ঝগড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।” কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান জানান, লাম্পি স্কিন ডিজিজ ছোঁয়াচে রোগ। সরকার বিনামূল্যে টিকাদান কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার পশুকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, এবার কুষ্টিয়ায় প্রায় দুই লাখ গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী গরুর চামড়া মফস্বলে ৫৭-৬২ টাকা এবং লবণযুক্ত চামড়া ১৮-২২ টাকা প্রতি বর্গফুটে বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। চামড়া ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সুষ্ঠু মনিটরিং ও সময়মতো পেমেন্ট নিশ্চিত হলে এবার তারা ভালো ব্যবসা করতে পারবেন।