কুষ্টিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব কিছুটা কমলেও এখনো পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

 

শফিকুর রহমান \  কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল  এখনো আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে আশার কথা হলো, আগের তুলনায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেক বেশি রোগী। চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ এবং অভিভাবকদের সতর্কতার কারণেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৫৮ জন হাম আক্রান্ত রোগী। নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৩ জন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জ্বর, ঠান্ডা, কাশি এবং শরীরে লালচে র‌্যাশ বা দাগ নিয়ে অধিকাংশ রোগী হাসপাতালে আসছেন। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালের সিনিয়র নার্স মুনমুন জানান, কয়েক সপ্তাহ আগেও প্রতিদিন অনেক বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছিলেন। তবে বর্তমানে রোগীর চাপ কিছুটা কমেছে। এখন প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হলেও অনেকেই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। তিনি বলেন, “আগের তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। চিকিৎসা ও পরিচর্যার কারণে বেশিরভাগ রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছে।” অন্যদিকে, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ১১ জন রোগী। সেখানে প্রতিদিন গড়ে একজন নতুন রোগী ভর্তি হলেও দুই থেকে তিনজন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে কোনো গুরুতর বা জরুরি অবস্থার রোগী নেই। এতে চিকিৎসক ও অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ হলেও সময়মতো চিকিৎসা নিলে এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তারা শিশুদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক অভিভাবক এখন আগের চেয়ে বেশি সচেতন হয়েছেন। শিশুর শরীরে জ্বর বা র‌্যাশ দেখা দিলেই দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসছেন। ফলে জটিলতা কম হচ্ছে এবং রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। সব মিলিয়ে কুষ্টিয়ায় হামের পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নতির দিকে গেলেও এখনো সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তাদের মতে, সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই পারে হামের বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শিশুদের নিরাপদ রাখতে।