নিজ সংবাদ:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিচারব্যবস্থার সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এআইয়ের প্রভাব ও অপব্যবহার থেকে বিচারব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে বিচারকদের এআই সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজস্ব প্রজ্ঞা ও বিচারিক বিচক্ষণতা প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বুধবার রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী নির্বাহী পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, এআই ব্যবহার করে কণ্ঠস্বর নকল, ছবি পরিবর্তন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। এমনকি মানুষের চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণেও এআই প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এর ঝুঁকি ও অপব্যবহার মোকাবিলায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিশ্ব এআই যুগে প্রবেশ করলেও এর ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এখনো যথাযথভাবে গড়ে ওঠেনি। কোনো বিচারককে এআইয়ের মাধ্যমে প্রভাবিত বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হলে তা বিচারিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।
আসাদুজ্জামান বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের সময় কোনো তথ্য বা উপাদান এআইনির্ভর কি না, সে বিষয়েও বিচারকদের সতর্ক থাকতে হবে। যথাযথ আইন ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত নিজস্ব বিচারিক বোধ ও বিচক্ষণতার ওপর নির্ভর করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার এআই নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে না। বরং এর ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপব্যবহার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ একরামুল হক ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
