নিজ সংবাদ \ জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আটটি অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। ফলে এখন যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল দীর্ঘ শুনানি শেষে মামলার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়েই তাদের চূড়ান্ত যুক্তি তুলে ধরেন। শুনানি শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন ইনু। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের আন্দোলন দমনে তাদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে সহিংস পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনায় তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে ইনু তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকান্ডে সরাসরি ভূমিকা পালন করেছেন। চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কারফিউ জারি এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘জঙ্গি কার্ড’ ব্যবহারের মতো কৌশল নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে কুষ্টিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয় ইনুর বিরুদ্ধে। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের ফলেই বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে উসকানি, প্ররোচনা, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রসহ মোট আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও জানিয়েছে প্রসিকিউশন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ আদালতে দাবি করেছে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন। ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ বলেন, প্রসিকিউশন যে দুটি টেলিফোন আলাপ আদালতে উপস্থাপন করেছে, সেখানে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানো বা দমন-পীড়নের কোনো নির্দেশনা নেই। বরং সেখানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার বা ১৪ দলের কোনো বিরোধ ছিল না; বিরোধ ছিল কেবল নাশকতাকারীদের সঙ্গে। তার মতে, ইনু কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, উসকানি বা সহিংস পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত নন। তাই আদালতের কাছে তিনি ইনুর বেকসুর খালাস দাবি করেন এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রসঙ্গত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। এছাড়া আহত হন বহু সাধারণ মানুষ। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরপর তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে মামলাটি এখন রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
