নিজ সংবাদ:
ভারতের ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে ভারত-বাংলাদেশের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় বুধবারও বাণিজ্য স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। এতে হিলি স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শ্রমিকরা, আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ভারতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি বন্দরে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা ও নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের দাবিতে গত ৩০ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি বন্ধ রেখেছেন তারা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে।
ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মন্ডল বলেন, বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেবেন। সেখানে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দিয়ে হিলি বন্দরের প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো তুলে ধরা হবে। সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হলে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হতে পারে। অন্যথায় ধর্মঘট চলবে।
বাংলাদেশের হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী ওয়াহেদুর রহমান রিপন বলেন, আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেক পণ্যবাহী ট্রাক ভারতের অংশে আটকে রয়েছে। সময়মতো পণ্য দেশে প্রবেশ করতে না পারায় ক্ষতি বাড়ছে।
বন্দরের শ্রমিক গোলাপ হোসেন জানান, তিন দিন ধরে ভারত থেকে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক আসছে না এবং বাংলাদেশ থেকেও রপ্তানিপণ্য নিয়ে ট্রাক ভারতে যাচ্ছে না। ফলে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
তবে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও হিলি স্থল কাস্টমস স্টেশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। আগে আমদানি করা পণ্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে খালাসের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজস্ব কর্মকর্তা পারভেজ।
