বিচারকের সিল-স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া কোর্ট ম্যারেজ

সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয়

মঙ্গলবার, জুলা ২৮, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

ঢাকার আদালতপাড়ায় বিচারকের স্বাক্ষর ও আদালতের সরকারি সিল জাল করে ভুয়া ‘কোর্ট ম্যারেজ’ এবং আদালত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি তৈরির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, আদালতকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্র অর্থের বিনিময়ে নোটারি হলফনামাসহ বিভিন্ন জাল নথি তৈরি করে প্রতারণা, হয়রানি এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১১ আদালতের বিচারক আরিফুল ইসলামের সিল ও স্বাক্ষর জাল করার ঘটনা ধরা পড়ে। বরগুনার বামনা উপজেলার একটি সিআর মামলায় দাখিল করা নোটারি হলফনামায় বিচারকের কাউন্টার সই ও সরকারি সিল ব্যবহার করা হয়েছিল। নথিটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ঢাকা মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম (সিএমএম) আদালতের নেজারত শাখায় সংরক্ষিত হলফনামা রেজিস্টার যাচাই করা হয়।

যাচাইয়ে দেখা যায়, হলফনামায় ব্যবহৃত স্মারক নম্বরটি অন্য একজনের নামে নিবন্ধিত। পরে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, বিচারকের সিল ও স্বাক্ষর জাল করেই নথিটি তৈরি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আদালত প্রাঙ্গণের কিছু ফটোকপির দোকান, দালাল, অসাধু আইনজীবী এবং কিছু অসৎ কর্মচারীর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের জালিয়াতি চলছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা, সমন, নোটারি হলফনামা, কাবিননামা এবং মামলার সার্টিফায়েড কপিতেও বিচারকের জাল স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, বিচারকের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল জাল করার ঘটনা বিচারব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অপরাধ দমন না হলে বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।