তারেক মাসুদের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক:

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নিজস্ব ভাষা, নির্মাণশৈলী ও চিন্তার স্বাক্ষর রেখে যাওয়া চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট ‘কাগজের ফুল’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের স্থান দেখে ফেরার পথে মানিকগঞ্জের ঘিওরে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সাংবাদিক ও চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীরসহ আরও তিনজন।

১৯৫৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ফরিদপুরের ভাঙ্গার নূরপুর গ্রামে জন্ম তারেক মাসুদের। মাদরাসায় শিক্ষাজীবন শুরু হলেও পরে সাধারণ শিক্ষায় যুক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই রাজনীতি, শিল্প-সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রচর্চায় যুক্ত ছিলেন তিনি।

চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জীবন নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘আদম সুরত’-এর কাজের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণে তার যাত্রা শুরু। ১৯৮৯ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। পরে মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ ফুটেজ নিয়ে নির্মিত ‘মুক্তির গান’ তাকে দেশজুড়ে পরিচিতি এনে দেয়।

তারেক মাসুদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র ‘মাটির ময়না’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে নতুন পরিচিতি দেয়। ২০০২ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি ফিপ্রেস্কি পুরস্কার লাভ করে। মুক্তিযুদ্ধ, ধর্মীয় বিশ্বাস, লোকজ সংস্কৃতি ও জাতীয় আত্মপরিচয়ের নানা দিক তার চলচ্চিত্রে বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

‘অন্তর্যাত্রা’, ‘রানওয়ে’, ‘নরসুন্দর’সহ তার অন্যান্য কাজও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। মৃত্যুর আগে তিনি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পটভূমিতে ‘কাগজের ফুল’ নির্মাণ করছিলেন। দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুতে ছবিটি অসমাপ্ত থেকে যায়।

স্বল্পদৈর্ঘ্য, পূর্ণদৈর্ঘ্য, প্রামাণ্যচিত্র ও অ্যানিমেশন মিলিয়ে তারেক মাসুদ মোট ১৬টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়। শারীরিকভাবে না থাকলেও তার চলচ্চিত্র ও নির্মাণের স্বতন্ত্র ধারা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে তাকে আজও স্মরণীয় করে রেখেছে।