আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন মানুষের বড় উদ্বেগের কারণ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন, সন্ত্রাস, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনা। একই সঙ্গে বেড়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হত্যার ঘটনা ঘটছে। এসব অপরাধে ক্রমেই বাড়ছে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন আতঙ্কের কারণ হয়েছে হত্যাকান্ডে ভাড়াটে খুনিদের ব্যবহার। সম্প্রতি সংবাদপত্রে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে এলাকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার ও স্বার্থের বিরোধে গুলিতে যুবদলকর্মী ইউসুফ খুন হয়েছেন। পুলিশ বলছে, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় যুবদলকর্মী ইউসুফ আলী পারভেজ নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরেক যুবদলকর্মী এবং একজন সবজি বিক্রেতা। এই হত্যাকান্ডে দক্ষিণাঞ্চলের কিলার গ্রুপের সদস্যদের ২৫ লাখ টাকায় ভাড়া করে আনার অভিযোগ উঠেছে একই থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজের বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একজন কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর আটটি ক্রাইম জোনে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, মাদক কারবার, ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্ব, অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা ও চাঁদাবাজি ঘিরে বিরোধের জেরে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব বিরোধে গত ছয় মাসে শতাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া চাঁদাবাজি, দলীয় কোন্দল ও অন্তঃকোন্দলে ৯ শতাধিক বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দলীয় কার্যালয়ে সংঘর্ষ, হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ডিএমপির (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) মাসিক অপরাধমূলক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত) রাজধানীতে ১০২ জনকে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, গত ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা মামলা হয়েছে এক হাজার ৭২৭টি। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৮৭, ফেব্রুয়ারিতে ২৫২, মার্চে ৩১৭, এপ্রিলে ২৮৮, মেতে ৩১০ এবং জুনে ৩২৩টি হত্যা মামলা করা হয়। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দলীয় কোন্দল, অন্তঃকোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৫৬ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হন। নিহত ৫৬ জনের মধ্যে বিএনপির ৩৭ জন (৬৬ শতাংশ), জামায়াতের ছয়জন (১১ শতাংশ) এবং আওয়ামী লীগের তিনজন রয়েছেন। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ৮৩০টি সহিংস ঘটনার ৬৭৩টিই (৮১ শতাংশ) ঘটেছে বিএনপির অন্তঃকোন্দলে। মানুষ নিরাপত্তা চায়, মান-সম্মান নিয়ে বাঁচতে চায়। আর তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।