নিজ সংবাদ:
চেক ডিজঅনার মামলার উদ্দেশ্য চেকদাতাকে কারাগারে পাঠানো নয়, বরং চেকের অর্থ আদায় নিশ্চিত করা—এমন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়ে রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রায়ের লিখিত অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২২ জুলাই বিচারপতি ড. মো. বশির উল্লাহর নেতৃত্বাধীন একক হাইকোর্ট বেঞ্চ বরিশালের এক গবাদিপশু ব্যবসায়ীর করা চেক ডিজঅনার মামলার রিভিশন আবেদনের শুনানি শেষে এ রায় দেন।
‘মো. আলাউদ্দিন বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য’ মামলায় হাইকোর্ট আসামির ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বহাল রাখলেও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বাতিল করেন। আদালত বলেন, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলায় কারাদণ্ড কেবল বিশেষ ও উপযুক্ত পরিস্থিতিতেই দেওয়া উচিত। রায়ে ‘আমান উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র’ মামলার নজিরও উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গবাদিপশুর ব্যবসার জন্য মো. আলাউদ্দিন ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধে একটি চেক দেন। ২০২০ সালের ২ নভেম্বর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। পরে আইনি নোটিশের পরও অর্থ পরিশোধ না করায় মামলা করা হয়। বিচারিক আদালত ২০২২ সালে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। আপিলেও সেই রায় বহাল থাকে।
পরে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করলে আদালত কারাদণ্ড বাতিল করে অর্থদণ্ড বহাল রাখেন। একই সঙ্গে রায়ের কপি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে অবশিষ্ট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে তাকে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে কারাদণ্ড ভোগ করলেও জরিমানার অর্থ পরিশোধের দায় থেকে তিনি অব্যাহতি পাবেন না বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
