হরমুজে ২ মার্কিন জাহাজসহ ৮ ট্যাংকারে হামলার দাবি ইরানের

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, মার্কিন ‘সন্ত্রাসী বাহিনীর আগ্রাসন ও বিদ্বেষের’ জবাব দিতে তাদের নৌবাহিনী এসব জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে আরও ১০টি ‘লঙ্ঘনকারী জাহাজকে’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের ‘উসকানি ও সমর্থনে’ প্রণালির একটি ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ অঞ্চল’ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ করেছে ইরানি বাহিনী।

আইআরজিসি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি এখনো তাদের ‘শক্তিশালী ও কর্তৃত্বপূর্ণ নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার’ অধীনে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সামরিক তৎপরতা জোরদারের মধ্যেই এমন দাবি সামনে এলো।

এর আগে মার্কিন বাহিনী ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় বলে তেহরান জানিয়েছে। ওই হামলার পরই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করল আইআরজিসি।

তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যিক চলাচলেও। সংঘাতের মধ্যে এ জলপথে জাহাজ চলাচল কমে এসেছে। ফলে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক বাজারেরও গভীর নজর রয়েছে। আইআরজিসির সর্বশেষ দাবির পর ওই অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।