বিনোদন ডেস্ক:
বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৭ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।
তার বড় ভাই কামাল আহমেদ বাচ্চু গণমাধ্যমকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন আমীরুল ইসলাম। নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে হতো তাকে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১৩ আগস্ট তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে গত রবিবার রাত ৩টার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। কয়েক দশকের সাহিত্যজীবনে শিশুদের জন্য তিনি অসংখ্য গল্প, ছড়া, কবিতা, নাটক ও সৃজনশীল রচনা লিখেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। এসবের অধিকাংশই শিশুসাহিত্যনির্ভর।
শিশুদের মনস্তত্ত্ব, আনন্দ-বেদনা ও কল্পনার জগতকে সহজ, প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় ভাষায় তুলে ধরে বাংলা শিশুসাহিত্যে নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করেছিলেন তিনি। তার লেখায় শিশুদের পরিচিত জগৎ, অনুভূতি ও কল্পনার নানা দিক বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
শিশুসাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। সাহিত্যচর্চায় দীর্ঘ অবদানের জন্য দেশে-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা ও পুরস্কারও পেয়েছেন এই খ্যাতিমান সাহিত্যিক।
তার মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিশেষ করে শিশুসাহিত্যে তার দীর্ঘদিনের অবদান পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
