টিকার পাশাপাশি পুষ্টি সুরক্ষায়ও গুরুত্ব দিতে হবে

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

সম্প্রতি বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) যৌথ গবেষণায় দেশে শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর কারণ সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশই জীবনের প্রথম ছয় মাস পর্যাপ্ত মায়ের বুকের দুধ পায়নি। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশই কোনো-না-কোনো মাত্রার অপুষ্টির শিকার ছিল; যাদের মধ্যে ১২ শতাংশ তীব্র এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি মাত্রার অপুষ্টিতে ভুগছিল। এছাড়া ৯ মাসের কম বয়সি শিশু এবং নিয়মিত টিকা থেকে বঞ্চিত শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ প্রায় শতভাগ। এসব উপাত্ত স্পষ্ট করে দেয় যে, শিশুদের অপুষ্টি এবং টিকার ঘাটতিই দেশে হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব ও শিশুমৃত্যুর প্রধান অনুঘটক। মায়ের বুকের দুধ শিশুর প্রাক-রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ‘ইমিউনিটি’ গড়ে তোলার প্রধান হাতিয়ার। প্রথম ছয় মাস কেবল মায়ের দুধ না পাওয়া এবং পরবর্তীকালে পুষ্টিকর খাবারের অভাবে শিশুরা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে হামের মতো সংক্রামক ভাইরাস সহজেই তাদের আক্রমণ করে এবং তা প্রাণঘাতী রূপ নেয়। তবে এজন্য কেবল পারিবারিক অসচেতনতাকে দায়ী করলে চলবে না। জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) বাস্তবায়ন ও নিবিড় নজরদারিতে বড় ধরনের গলদ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। ৯ মাস বয়সের নিচের শিশুদের সুরক্ষা কীভাবে দেওয়া যায় এবং নির্দিষ্ট বয়স পার হওয়ার পরও কেন বিপুলসংখ্যক শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি রাখে। পাশাপাশি গবেষণায় শনাক্ত হওয়া ভাইরাসের ‘বি৩’ সাবক্লেড ও মিউটেশনের বিষয়টিও জিনোমিক নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন, যাতে বিদ্যমান টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখা সম্ভব হয়। হাম একটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য ও প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রায় টিকাদান এবং শিশুর সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে বহু শিশুকে অকালে প্রাণ হারাতে হতো না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারকে অবিলম্বে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন জোরদার করার পাশাপাশি শিশু পুষ্টি এবং শালদুধ ও প্রথম ছয় মাস মায়ের দুধের গুরুত্ব সম্পর্কে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। শিশুদের সুরক্ষায় টিকাদান ও অপুষ্টি দূরীকরণে এখনই সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।