রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে সড়ক সংস্কার করা হয়েছিল। দুই দিন না যেতেই সেই সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রংপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সড়ক সংস্কারের নামে এমন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গত ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের কয়েকটি অংশ দ্রুত সংস্কার করা হয়। রোড ডিভাইডারেও রং করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, সংস্কারের দুই দিনের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে আবার গর্ত দেখা দেয়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যথাযথভাবে সংস্কার না করেই টাকা খরচ করা হয়েছে। আবারও একই সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে একই কাজে বারবার রাষ্ট্রের টাকা অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। রক্ষণাবেক্ষণ খাতের টাকা দিয়ে কাজ করা হয়েছে। তবে কত টাকা খরচ হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। জরুরি মেরামতের ক্ষেত্রে দরপত্র না ডাকলেই অনিয়ম হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে ব্যয়ের হিসাব ও কাজের মানের প্রশ্নে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সড়ক সংস্কার করা হলে তার মান নিয়ে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সড়কে মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। কাজ টেকসই না হলে সেই কাজের জন্য করা খরচের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। প্রকৃত খরচ, ব্যবহৃত সামগ্রী ও কাজের মান যাচাই করতে হবে। অনিয়ম-দুর্নীতি প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভবিষ্যতে সড়ক সংস্কারে নিয়ম মানা ও কাজের মান নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের টাকা জনগণের সম্পদ। জনগণের টাকা অপচয় বা আত্মসাতের অভিযোগ কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।