দরজাটা খুলে দে, তোর কিছু হবে না

আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রামিসার মা

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে জবানবন্দি দিতে গিয়ে পারভীন আক্তার বলেন, “আমি তাকে অনেকবার বলেছি, বোন দরজাটা খুলে দে, তোর কিছু হবে না। কিন্তু সে দরজা খুলে নাই।” সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি ঘটনার দিন মেয়েকে খুঁজে বেড়ানোর বর্ণনা দেন। একপর্যায়ে পাশের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে ভয়াবহ দৃশ্যের মুখোমুখি হন তারা।

মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা আদালতে জানান, স্ত্রীর ফোন পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বাথরুমের সামনে রক্ত দেখতে পান। পরে শয়নকক্ষের একটি বালতির ভেতর মেয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

এদিন কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয় মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে। নিহত রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের সাক্ষ্য শিশু সুরক্ষার স্বার্থে ‘ক্যামেরা ট্রায়াল’-এর মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইতোমধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন এবং গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আগামীকালও সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।