ক্ষেপণাস্ত্রেই শক্তি, আপসে নয়

ইরানের কড়া বার্তা

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা যখন ধীরে ধীরে সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে, তখন তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে—তাদের অর্জিত যেকোনও ছাড় কূটনৈতিক আপসের ফল নয়, বরং সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধ শক্তির প্রতিফলন। পাকিস্তান, কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা এগোলেও ইরান বারবার জোর দিচ্ছে নিজেদের প্রতিরক্ষা কৌশলের ওপর।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “আমরা আলোচনার মাধ্যমে নয়, ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ছাড় আদায় করি।” তিনি আরও বলেন, “যেকোনও চুক্তির প্রকৃত বিজয়ী সেই পক্ষ, যে চুক্তির পরদিনও যুদ্ধের জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত থাকে।”

ইরানের কট্টরপন্থি নেতারা কূটনীতিকে এখন আর উত্তেজনা কমানোর উপায় হিসেবে নয়, বরং প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে পারস্য উপসাগরে সামরিক উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ ফেরত নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের পথ ত্যাগ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে হবে। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরান কোনো অর্থ পাবে না।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ইরান আগেভাগে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। তেহরানের দাবি, বিস্তারিত পারমাণবিক আলোচনার আগে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, যুদ্ধাবস্থার অবসান এবং আটকে থাকা বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফেরতের নিশ্চয়তা দিতে হবে। এতে স্পষ্ট যে, পারস্পরিক অবিশ্বাসের মধ্যেই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন-তেহরান সংলাপ।