অবশেষে তিন চাকা পর্যন্ত বাদ দিয়ে টোল চালু, তবুও আন্দোলনের ডাক

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

কুমারখালী প্রতিনিধি \ দীর্ঘ ২১ মাস পর কুষ্টিয়া- রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালীর সৈয়দ মাছ – উদ – রুমী সেতুর টোল আদায় শুরু হয়েছে। সোমবার রাত থেকে সেতুতে টোল আদায় শুরু করেন ইজারাদারের লোকজন। তবে এখন দুই ও তিন চাকার সকল যানবাহন বাদ দিয়ে টোল নেওয়া হচ্ছে। আদায়কারীদের ভাষ্য, টোল বন্ধের দাবিতে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকে এলাকাবাসী কয়েক দফা আন্দোলন- সংগ্রাম করেছেন। প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। তাই তাঁদের দাবিকে সম্মতি জানিয়ে দুই- তিন চাকা বাদ দিয়ে টোল আদায় চলছে। এতে কারো অসুবিধা নেই। এদিকে রাতের আধারে টোল চালু হলে ফেসবুকে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতিবাদের ঝড় উঠে। টোলকে অবৈধ দাবি করে আজ বুধবার (২০ মে) বিকেল ৪টায় সেতুর টোল প্লাজা ঘেরাও কর্মসূচীর ডাক দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটি। এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব মো. আসাদুজ্জামান আলী। সওজ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়াই নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করে সওজ। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট টোল আদায় বন্ধের দাবিতে টোলপ্লাজায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এর কদিন পর ১৩ আগষ্ট সওজ কর্তৃপক্ষ টোল আদায় করতে গেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা বাধা দেয়। এরপর থেকে সেতুতে টোল আদায় বন্ধ ছিল। এতে প্রতিদিন ৩-৪ লাখ টাকা রাজস্ব বাঞ্চিত হয়েছে সরকার। সেতু থেকে গত ২১ মাসে অন্তত ১৮ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। ফের টোল চালু করতে গত ১০ মার্চ নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে সওজ। ২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় টোল আদায়ের কাজ ঠিকাদারি পায় কুষ্টিয়ার প্রতিষ্ঠান থ্রি স্টার এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। ১০ এপ্রিল থেকে টোল আদায়ের লক্ষ্যে ৭ এপ্রিল টোলপ্লাজা পরিদর্শনে গিয়েছিল প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সেদিনও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলন শুরু করলে সটকে যান কর্মকর্তারা। এরপর মাসখানেক সুনসান নিরবতার পর গত সোমবার রাত থেকে টোল আদায় শুরু করেছে ঠিকাদার। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, টোলপ্লাজা এলাকায় ধীরগতিতে চলছে যানবহন। সৃষ্টি হয়েছে যানযটের দীর্ঘলাইন। ভাঙা টোল ঘরের সংস্কার কাজ চলছে। দুই- তিন চাকার সকল যানবাহন বাদ রেখে টোল আদায় চলছে। এ সময় ঠিকাদের প্রতিনিধি আশরাফ হোসেন বলেন, জনগণের দাবি মেনে নিয়ে এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দুই- তিন চাকার যানবহন বাদ রেখে টোল আদায় চলছে। এখন পর্যন্ত টোল আদায়ে কোনো বাঁধা আসেনি। তবে এতোদিন পর টোল আদায় নিয়ে এলাকাবাসী ও স্থানীয়দের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। কুমারখালী সিএনজি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিরোন শেখ ও সদস্য লিটন শেখ বলেন, ‘আমরা থ্রি হুইলার বন্ধের জন্য আন্দোলন করেছিলাম। প্রশাসন কথা রেখেছে। এভাবে টোল আদায় করলে সমস্যা নেই। তবে থ্রি হুইলারের টোল চালু হলে আবার আন্দোলন করা হবে।’  টোল বেশি নেওয়ার অভিযোগ তুলে ট্রাক চালক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আগের ১৫০ টাকার টোল এখন নিচ্ছে ১৮০ টাকা। এতোদিনেও কি সেতুর টাকা উঠেনি? আমরা চাই কুষ্টিয়াতে টোল আদায় বন্ধ থাক।’ উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে সমছের আলী। তিনি বাইসাইকেল চালিয়ে প্রতিদিন কুষ্টিয়ার শহরে রাজমিস্ত্রির কাজে যান। তিনি বলেন, অনেক আগেই সেতুর খরচ উঠে গেছে। এসব টোল আর দরকার নাই।’ তাঁর সহকর্মী আব্দুল হান্নান বলেন, ‘৫ তারিখের আগে যাওয়া – আসায় ২০ টাকা টোল লাগত। অনেকদিন বন্ধ ছিল। আজ দেখছি আবার টোল আদায় চলছে। তবে সাইকেল ভ্যানের টাকা নিচ্ছেনা।’ কুষ্টিয়া সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম বলেন, ৫ আগষ্টের পর থেকে টোল বন্ধ ছিলো। প্রতিদিনই ৩- ৪ লাখ টাকার মতো রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। তবে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠক শেষে টোল চালু হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী টোল চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার  জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান। তিনি বলেন, টোল আদায়ে কোনো বাঁধা নেই। জনগণের কোনো চ্যালেঞ্জ থাকলে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।