কুমারখালী প্রতিনিধি \ দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আযহা। এটি কোরবানির ঈদ নামেই পরিচিত। ঈদের বাকী আর মাত্র ৯দিন। এই ঈদের বিশেষ আকর্ষণ কোরবানির উদ্দেশ্যে পশু জবাহ। ঈদকে সামনে রেখে লাভের আশায় বছরজুড়ে খামারি, কৃষকসহ নানান শ্রেণি পেশার মানুষ যত্ন সহকারে পশু লালন পালন করে থাকে। পশুগুলো সাধারণত স্থানীয় হাটে এনে বেচাবিক্রি করে থাকেন পশু মালিকরা। ইতিমধ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর হাটগুলোতে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। দুর দুরান্ত থেকে হাটে ভিড় করছেন ক্রেতা- বিক্রেতারা। তবে হাটে মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও পশু বেঁচাকেনা উপেক্ষিত। চাহিদামতো দাম না পেয়ে চরম হতাশায় পড়েছেন পশু মালিক ও বিক্রেতারা। তাঁদের ভাষ্য, প্রতিছর ঈদের অন্তত মাসখানেক আগে থেকেই হাটের পশু কেনাবেচা শুরু হয়। দিন পনেরো আগে থেকে ধুম পড়ে যেত হাটে। তবে এবারে হাটের চিত্র ভিন্ন। ঈদের সময় ঘনিয়ে আসলেও বেচাবিক্রি নেই। আবার সীমিত পরিসরে বেচাকেনা চললেও মিলছেনা পশুর ন্যায্যমূল্য। পশু বিক্রি না হলে বড় ধরনের লোকশানের শঙ্কায় পড়বেন তাঁরা। জানা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে প্রতি রবিবার কুমারখালী শহর- পান্টি সড়কের জয়বাংলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় বসে ঐতিহ্যবাহী যদুবয়রা সপ্তাহিক পশুহাট। রবিবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ধারে বেশকিছু দোকান ঘর। তাঁর পিছনের ফাঁকা মাঠে বসেছে মাঝারি আকারের হাট। সেখানে সারিবদ্ধ বাঁশের খুঁটিতে বাঁধা রয়েছে বাহারী রঙের কয়েক হাজার গরু। বাঁধার খুঁটি না পেয়ে কেউ কেউ আবার হাতে ধরেছেন গরুর দড়ি। এ সময় বয়োজ্যেষ্ঠ কৃষক হযরত আলী বলেন, প্রায় তিন মণ ওজনের একটি ষাঁড় এনেছি। সারাদিন চলে গেল তবুও বেচা হলোনা। কেউ ভালো দামই বলেনি। এক লাখ ২০ হাজার টাকার গরু ৭৫ হাজার দাম হচ্ছে। এবারের মতো এতো মন্দা হাট আগে দেখিনি। এ দিন কুমারখালীর জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দয়রামপুর থেকে একটি বড় বকনা গরু নিয়ে হাটে এসেছিল খামারি তোফাজ্জেল হোসেন (৬৫)। তিনি বলেন, বাড়িতে ২১টি গাভীর খামার আছে। টাকার প্রয়োজন হওয়ায় সাড়ে তিন মণ ওজনের একটি বকনা বিক্রির জন্য এসেছি। গরু বাঁধার খুঁটি পাইনি। তাই দড়ি ধরে আছি। কিন্তু হাটে গরুর দাম নেই। ৭০- ৮০ হাজার টাকা দাম হচ্ছে। এক লাখ ২৫ হাজার হলে বিক্রি করব। যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের কৃষক আমজাদ আলী বলেন, প্রায় সাত মণ ওজনের ষাঁড় গরুটি এক লাখ ৬০- ৬৫ হাজার টাকা দাম হচ্ছে। অন্তত দুই লাখে বিক্রি হলে কিছুটা লাভ হতো। স্থানীয় গরুর ব্যাপারী বাবলু মোল্লা বলেন, গ্রাম থেকে কিনে আটটি গরু হাটে তুলেছি। হাটে প্রচুর মানুষ। কিন্তু বেচাকেনা নেই। এবার গরুর ভালো দামও নেই। একটি গরু সামান্য লাভে বিক্রি করেছি। নন্দলালপুর ইউনিয়নের পুরাতন চড়াইকোল এলাকার ব্যবসায়ী বকুল শেখ বলেন, দেশের পরিবেশ পরিস্থিতি ভালোনা। বাইরের ব্যবসায়ীরা আসেনি। গোখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরুর দামও বেশি চাচ্ছেন মালিকরা। তবে ছোট গরু দুই- একটা বেচাকেনা হলেও বড় গরু নেওয়ার লোক নেই হাটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম থেকে হাটে আসা এক ব্যবসায়ী বলেন, গতবছরের চেয়ে এবার গরু প্রতি ৩০- ৪০ হাজার টাকা দাম বেশি। গাড়ি ভাড়া করে এসেছি। তাই মাঝারি আকারের ২৩ টা গরু কিনেছি। তবে খোকসা থেকে আসা ক্রেতা ও বিএনপি নেতা রিপন হোসেন বলেন, বাজারের পরিবেশটা খুব সুন্দর। অনেক পশু উঠেছে। দামও বেশ সস্তা। সুলভমূল্যে একটি কোরবানির ষাঁড় কিনেছি। হাটের ইজারাদার আবু সেলিম বিশ্বাস বলেন, রবিবার প্রায় ৪৮৭ টি গরু এবং ৬৯৬টি ছাগল বেচাকেনা হয়েছে। গতবছরের তুলনায় বেচাবিক্রি কিছুটা কম। তবে সামনের হাটে কয়েক হাজার পশু বেচাবিক্রির প্রত্যাশা তাঁর। ঈদের বাকী এখনও অনেকদিন। মানুষ সাধারণত এক- দুইদিন আগে কোরবানির পশু কিনে থাকেন। এখন শুধু যাচাই – বাছাইয়ের জন্য হাটে ভিড় করছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, এবছর উপজেলায় তিন হাজার ৫৯৭ টি খামারে প্রায় ৩০ হাজার পশু প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার। যা গতবছরের চেয়ে ৩ হাজার বেশি। খামারিরা এবছরও ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে প্রত্যাশাঁ করছেন তিনি।
