কুমারখালীতে ভাগের ধান কাটতে গিয়ে স্কুল ছাত্রের হাতের রগ কেটে দিল প্রতিপক্ষরা

বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬

 

কুমারখালী প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বোরিংয়ে সেচ দেওয়া জমির ভাগের ধান কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় এক স্কুল ছাত্রকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার (১৭ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত নাইমুর রহমান (১৮) ওই গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিনের ছেলে। এছাড়াও তিনি শিলাইদহ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। স্বজনদের ভাষ্য, ভাগের ধান কাটতে গেলে একই এলাকার কৃষক নাসির উদ্দিন (৬০), তার ছেলে বিপুল (৩০) সহ কয়েকজন নাইমুরের বাঁ হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারে। এতে প্রায় ৪ সেন্টিমিটার গভীর ক্ষত হয়ে হাড়, মাংস ও রগ কেটে গুরুতর আহত হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলগাছি মাঠে কৃষক হেলাল উদ্দিনের সরকার অনুমোদিত একটি সেচ পাম্প আছে। সেখানে তিনি প্রায় ৪৫ – ৫০ বিঘা জমির একটি ব্লকে এক- চতুর্থাংশ ভাগে চুক্তি ভিত্তিক সেচ প্রদান করে থাকেন। তবে কয়েকবছর যাবৎ আরেক কৃষক নাসির উদ্দিন আবাসিক বিদ্যুত ব্যবহার করে অবৈধভাবে একই ব্লকের কিছু জমিতে সেচ প্রদান করছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরপর আজ সকালে হেলাল উদ্দিন ও তাঁর ছেলে নাইমুর রহমান ব্লকে ভাগের ধান কাটতে যান। সেসময় নাসিরদের সঙ্গে তাঁদের বাগবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে নাসির ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কৃষক হেলালকে কোপ মারে। আর বাবার ওপরে পড়তে যাওয়া সেই কোপ ঠেকাতে গিয়ে আহত হন ছেলে নাইমুর রহমান। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সকাল ১০টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের সামনের বারান্দায় একটি বেডে রেখে চিকিৎসা চলছে স্কুল ছাত্র নাইমুরের। তার বাম হাতে সাদা ব্যান্ডেজ বাধা। তা চুইয়ে পড়ছে রক্ত। ব্যথা – যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। স্বজনরা তাকে শ্বান্তনা দিচ্ছেন। এ সময় নাইমুরের মামাতো ভাই উজ্জল হোসেন বলেন, বোরিংয়ে সেচের ধান কাটতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালায়। তখন বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে নাইমুর হামলার শিকার হয়েছে। বাঁ হাতের কনুই ও কব্জির মাঝামাঝি অংশের হাড়, মাংস ও রগ কেটে গেছে। চিকিৎসক রাজশাহী নিতে বলেছেন। বাবা হেলাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি বৈধ লাইসেন্স নিয়ে জমিতে সেচ দিয়েছি। আজ ভাগের অংশ কাটতে গেলে নাসির, তার ছেলে বিপুলসহ চার – পাঁচজন হাঁসুয়া, কাঁছি, রাম দা নিয়ে প্রথমে আমাকে মারধর করে। এরপর কোপ মারতে গেলে ছেলে ঠেকিয়ে দেয়। তখন ওই কোপ ছেলের লেগে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ গিছিল। থানায় মামলা করব। সঠিক বিচার চাই।’ এ দিকে ঘটনার পর থেকে গাঁ -ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত কৃষক নাসির উদ্দিন ও তাঁর ছেলে বিপুল হোসেন। সেজন্য তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নাসিরের ফুফাতো ভাই রুবেল হোসেন বলেন, বাদী- বিবাদী দুজনেই তাঁর নিকটতম আত্মীয়। সেচ দেওয়া জমির ফসলের ভাগ নিয়ে কয়েকবছর ধরে তাঁদের বিরোধ চলছে। আগে রোগী সুস্থ হোক। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক বলেন, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রায় ৪ সেন্টিমিটার গভীর ক্ষত হয়েছে। হাড়, মাংস, রগ কেটে গেছে। সেলায়টাও দেওয়া সম্ভব হয়নি। দ্রুত রেফার্ড করা হয়েছে। কুমারখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহাগ খান বলেন, বোরিংয়ের সেচ দেওয়া জমির ধানকাটা নিয়ে বিরোধের জেরে একজন কুপিয়ে আহতের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।