নিজ সংবাদ \ মরণ বাঁধ ফারাক্কা আমাদের জাতির জন্য সবচেয়ে বড় অভিশাপ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া এক শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মরণ বাঁধ ফারাক্কার ভয়াবহ প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা এবং কুষ্টিয়া অঞ্চলের পানির অধিকার আদায়ে, কুষ্টিয়া পদ্মা বাঁধ বাস্তবায়ন কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। গতকাল রবিবার (১৭ মে) বিকেল ৪টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের আলফা মোড়স্থ নবীন টাওয়ারে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পদ্মা বাঁধ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক এবং কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। কুষ্টিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিনের সার্বিক সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বশিরুল আলম চাঁদ, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম রিন্টু ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীমউল হাসান অপু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আল আমীন রানা কানাই ও সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মেজবাউর রহমান পিন্টু, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস আর শিপন বিশ্বাস। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথি ছিলেন, পৌর বিএনপির সভাপতি এ কে বিশ্বাস বাবু, দি কুষ্টিয়া চেম্বারের পরিচালক ফুহাদ রেজা ফাহিম, জেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি গোলাম কবির, সদর উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী রেখা, জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বি, সাবেক ছাত্রনেতা মামুন-অর রশিদ, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল শাহরিয়ার মামুনসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি, পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। ?আলোচনা সভায় এমপি বাচ্চু মোল্লা বলেন, ফারাক্কা বাঁধ আমাদের নদীমাতৃক বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী অভিশাপ। এর ফলে আমাদের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলো আজ মৃতপ্রায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের কৃষিকাজে। এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারেজ নির্মানের প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। পদ্মা ব্যারেজ হলে কয়েকটি জেলার মানুষ কৃষিতে দেড় গুন ফসল উৎপাদন করতে পারবে। আমাদের নদী শুকিয়ে যায়, পানি থাকে না। নদীতে পানি থাকলে মাছের অভাব হবে না। ভারত আমাদের পক্ষে নেই, বাংলাদেশকে তারা জিম্মি করে রাখতে চায়। ভারত শুধু আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করে। দীর্ঘ ১৫বছর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছিলো ভারত। তারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে সাপোর্ট করে না। তবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকলে দেশ অনেক আগে আরো উন্নত হতো। আমরা শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে থাকি, সেটা অনেক আগে সমাধান হতো। তিনি বলেন, ওই ফারাক্কা বাধের কারনে আমাদের পানির স্তর নেমে যায়। বর্ষা মৌসুমে ভারত আমাদের পানিতে তলিয়ে মারতে চায়। কিন্তু আমরা আশাকরি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সমাধান করবেন। আমাদের দেশনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছেন। সমাপনী বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, পদ্মা নদীকে বাঁচানো এবং ফারাক্কার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র পথ হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে ‘পদ্মা বাঁধ’ বাস্তবায়ন করা। আমরা কুষ্টিয়াবাসী আমাদের এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। তিনি আরো বলেন, আমরা পাকিস্তানের হাত থেকে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলাম। ভারত বাংলাদেশকে জিম্মি করে রাখতে চায়। ভারতকেও মনে রাখতে হবে এদেশের মানুষ সেটা হতে দিবে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আমাদের দেশমাতা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে গেছেন। তাদের সুযোগ্য সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকের কথা ভেবে কৃষি কার্ড, অসহায় মানুষের কথা ভেবে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করছে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে কৃষকের ফসল উৎপাদনে খাল পুন:খননের কাজ চলছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তিনি গাছ লাগানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশনায় আমরা কাজ করছি। তিনি আরো বলেন, পানির অভাবে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। একটি মহল এর সুযোগ নিচ্ছে। আপনারা দেখবেন গাড়িতে বালি নেওয়ার সময় বালি উড়ে মানুষের চোখে যাচ্ছে, বাচ্চাদের চোখে পড়ছে, রাস্তা ঘাট নষ্ট হচ্ছে, এরা পরিবেশকে আরো নষ্ট করছে। এই সব ডাকাতদের হাত থেকে কুষ্টিয়াকে বাঁচাতে হবে। ভালো কাজ করতে হবে। কুষ্টিয়ার অনেক সু-নাম রয়েছে। কিন্তু কিছু বিষয়ে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। কুষ্টিয়া বিখ্যাত নামে পরিচিত, রবীন্দ্রনাথ, লালন, বাঘা যতিন, কবি মীর মোশাররফসহ বিভিন্ন গুনিজন কুষ্টিয়ায় অবদান রেখেছে। তাই দেশকে ভালোবাসুন, কুষ্টিয়ার উন্নয়নে সকলে ঐক্যবদ্ধ হোন। এছাড়া সভায় বক্তারা ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের পরিবেশ, কৃষি এবং অর্থনীতিতে সৃষ্ট দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয়ক্ষতির তীব্র সমালোচনা করেন। একই সাথে এই বিপর্যয় রুখতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। ?সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পরিবেশবাদী কর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক স্লোগান এবং দেশের স্বার্থে নদী রক্ষার এই দাবিকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক জনসমাগমের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন এর লেখা ‘মরণ বাঁধ ফারাক্কা জাতির জন্য সবচেয়ে বড় অভিশাপ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
