হাসানুজ্জামান রাজীব \ পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী যদুবয়রা পশুর হাট জমে উঠেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো হাট এলাকা। সকাল থেকেই ট্রাক ভর্তি গরু নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। ছোট-বড়, দেশি-ক্রসসহ নানা জাতের গরু ও ছাগলে ভরে গেছে হাট। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, হাটের প্রাণচাঞ্চল্য ততই বাড়ছে। দেশীয় পশুর তুলনায় ক্রস জাতের গরুর দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক ক্রেতাই এদিকে ঝুঁকছেন। তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পশুখাদ্য ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি। তারপরও বাজার স্থিতিশীল রয়েছে এবং এখনই ভালোমানের পশু পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল রবিবার (১৭ মে) সরেজমিনে হাট পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক গরু-ছাগলে হাট কানায়-কানায় পরিপূর্ণ। হাটে পশুর চাহিদা অনুযায়ী পশুর উপস্থিতি থাকায় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই সন্তুষ্ট। গরু কিনতে আসা শিশু ক্রেতা সোহাগ ইসলাম জানায়, “বাবার সঙ্গে এসে সাড়ে সাত লাখ টাকায় একটি গরু কিনেছি। হাটে এসে খুব ভালো লাগছে।” আরেক ক্রেতা পলাশ বলেন, “কোরবানির জন্য গরু কিনলাম। হাটে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে কেনাবেচা করতে পারে, সেটাই চাই।” দেশি গরু নিয়ে আসা মাহফুজুর রহমান বলেন, “দেশি গরুর দাম মোটামুটি ভালো। ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হবে বলে আশা করছি।” তোতাপুরি ছাগল বিক্রেতা বিল্লাল জানান, “ছাগলটির দাম হচ্ছে ৩০-৩২ হাজার টাকা। শরীরে ৪০-৪৫ কেজি মাংস হবে।” এদিকে হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছেন। জাল টাকা প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বাংলা কিউআর, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের সুবিধা চালু রয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে। যদুবয়রা পশুর হাট ইজারাদার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন, “দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারীদের নিরাপত্তা ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা আমরা করেছি। সবাই যাতে নিরাপদে কেনাবেচা করতে পারেন, সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।” শুধু পশু কেনাবেচার জায়গা নয়, ঈদকে ঘিরে যদুবয়রা পশুর হাট এখন মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ঈদ যত এগিয়ে আসবে, হাটের ব্যস্ততা ততই বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
