শফিকুর রহমান \ “ফুলের মতো ফুটবো মোরা, জ্ঞানের আলোয় জ্বলবো” এই প্রাণবন্ত স্লোগানকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো “কিশোর কণ্ঠ মেধাবৃত্তি-২০২৫” প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ নতুন প্রজন্ম গঠনের প্রত্যয়ে কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ২০৫ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৭৩ জন ট্যালেন্টপুল এবং ১৩২ জন সাধারণ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং পবিত্র কুরআন মাজিদ তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের এ অর্জনে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যেও আনন্দের আবহ তৈরি হয়। এ বছর জেলার প্রায় ৫০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির প্রায় ২৩০০ শিক্ষার্থী এ মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ এবং নিজেদের মেধা বিকাশের আকাঙ্ক্ষা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুষ্টিয়া জেলা কিশোরকণ্ঠের আহ্বায়ক ইমরান বিশ্বাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন মুহিবুর রহমান মুহিব। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষা বিষয়ক ব্যক্তিত্ব, স্থানীয় সদস্য এবং অভিভাবকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, শুধু ভালো ফলাফলই নয়, একজন শিক্ষার্থীর নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে এমন আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তারা আরও বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করলে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়। আনন্দঘন পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, “কিশোর কণ্ঠ মেধাবৃত্তি” শুধু একটি বৃত্তি প্রদান কর্মসূচি নয়; এটি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার একটি মহৎ উদ্যোগ। ভবিষ্যতে এ আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে পরিচালিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
