তরিকুল ইসলাম \ ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কামারপল্লীতে এখন চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চারদিকে ভেসে আসছে লোহা পেটানোর ঠকঠক শব্দ। দা, ছুরি, চাপাতি, বটি ও কুড়ালের বাড়তি চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমারখালি কামারপল্লীর বিভিন্ন কামারশালায় কয়লার আগুনে লোহা গরম করে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি করা হচ্ছে কোরবানির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। কেউ নতুন সরঞ্জাম বানাচ্ছেন, আবার কেউ পুরোনো দা-ছুরি শান দিতে এসেছেন। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় কোরবানির মৌসুমে কাজ ও আয় কয়েকগুণ বেড়ে যায় বলে জানান স্থানীয় কামাররা। কোরবানির ঈদে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদির দাম জানতে চাইলে কামার সেলিম শেখ বলেন, ছুরি তৈরিতে ১৫০০ টাকা এবং বটির জন্য ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। কোরবানির আগে কাজের চাপ সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। আরেক কামার শুকুর আলী জানান, ডাসা, কুড়াল ও ছুরির চাহিদাই বেশি। লোহার দাম বেড়েছে, তবুও আগের দামেই সরঞ্জাম বিক্রি করার চেষ্টা করছেন তারা। আরেক কামার আব্দুল রশিদ বলেন, কোরবানির ঈদ ঘিরে এক মাসজুড়ে সরঞ্জামের বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। এতে তাদের সংসারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। কুমারখালী ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে। ক্রেতারা বলছেন, ঈদের আগে পশু কেনাবেচার ব্যস্ততা বাড়ার আগেই তারা দা, চাকু ও চাপাতিসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করছেন। ক্রেতা আব্দুল গণি বলেন, কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতেই তারা কামারপল্লীতে আসেন। আরেক ক্রেতা সাগর জানান, “ছুরি-ডাসাসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে আমরা এখানে এসেছি। আগামী কোরবানির ঈদে পশু জবাইয়ের জন্য এগুলো ব্যবহার হবে”। আরেক ক্রেতা মিঠু শেখ জানান, “কোরবানি এলে আমাদের মাংস কাটতে যেসব সরঞ্জামাদি প্রয়োজন হয় আমরা সেগুলো এখান থেকেই নিই”। আরেক ক্রেতা রেজাউল ইসলাম জানান, কোরবানি আসলে তো চাপাতি- বটি- চাকু- ডাসা এগুলো প্রয়োজন হয়। আমাদের কাছে পূর্বের সরঞ্জাম যা থাকে সেগুলো পোড়াতে আসি আবার কখনও অতিরিক্ত কিছু সরঞ্জাম কিনতেও হয়”। অন্য ক্রেতারাও জানান, এখানকার তৈরি সরঞ্জাম টেকসই ও ব্যবহার উপযোগী হওয়ায় প্রতি বছর এখান থেকেই কেনাকাটা করেন তারা। কামারদের আশা, ঈদকেন্দ্রিক এই বাড়তি কাজ তাদের আর্থিক সংকট কিছুটা হলেও দূর করবে।
