নিজ সংবাদ:
সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ঈদযাত্রা উপলক্ষে সড়কে চাঁদাবাজি, বাড়তি ভাড়া আদায় বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং পরিবহন শ্রমিক-মালিক নেতারা সবাই এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মন্ত্রণালয়ে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ঈদের আগে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা থেকে বাইরে যাবে। এটি বিশ্বের অন্য কোনো শহরে এত অল্প সময়ে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের ডিপার্চারের নজির নেই। তবে অতীতে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সফল হয়েছে সরকার, এবারও আরও ভালোভাবে করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত মালিক-শ্রমিক সমিতি তাদের কল্যাণে নির্ধারিত হারে চাঁদা নিলে তাকে চাঁদাবাজি বলা যায় না। কিন্তু যেসব অসমিতি বা অবৈধ সংগঠন স্বেচ্ছাচারীভাবে চাঁদা আদায় করে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং চিরতরে বন্ধ করা হবে।
বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকা বেশি নিলেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। রুট পারমিট বাতিল, ফৌজদারি মামলা এবং যেকোনো মূল্যে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মন্ত্রী জানান, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো ১৬ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে ছুটি হবে। মালিকপক্ষের অঙ্গীকার অনুযায়ী কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না বলে আশা করা হচ্ছে। ঈদের দুইদিন আগে ও পরে নিত্যপণ্য ও পচনশীল দ্রব্য ছাড়া সব ধরনের মালামাল পরিবহন বন্ধ থাকবে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকেও অপ্রয়োজনীয় পণ্য খালাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইওয়েতে অস্থায়ী দোকান, যত্রতত্র পার্কিং, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের কারণে লেন অকেজো হয়ে যাওয়া রোধে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় উঠতে পারবে না। অল্প মেরামত করে গাড়ি চালানো বন্ধ করা হয়েছে যাতে মাঝপথে বিকল না হয়। নৌপথে চাপ কমাতে বসিলা ঘাট ও কাঞ্চনঘাট চালু করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, সভায় মোট ২৮টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে ঈদযাত্রা নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও আরামদায়ক হয়।