বায়ুদূষণ নীরব ঘাতক। এর ফলে কমে আসছে আমাদের গড় আয়ু। প্রায় সারা বছর বায়ুদূষণজনিত রোগবালাইয়ে ভুগছে সাধারণ মানুষ। আশার কথা হলো, বর্তমান সরকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকারের গৃহীত পরিকল্পনার মধ্যে পরিবেশদূষণকারী গাড়ি প্রত্যাহার, সড়কে ইলেকট্রিক বাস চালু ও নির্মাণকাজে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মূলত শুষ্ক মৌসুমে ঢাকাসহ সারা দেশে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। এ সময় ইট পোড়ানো, নির্মাণকাজের ধুলা, লাকড়ি-কাঠ, গাছের লতাপাতা, ময়লা-আবর্জনা ও পৌর বর্জ্য পোড়ানোর মতো দূষণকারী কর্মকাণ্ড চলে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে দূষিত বায়ু উত্তর-পশ্চিম দিক দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেও দূষণের মাত্রা বাড়ায়। গবেষণার তথ্য বলছে, বৃহত্তর ঢাকার প্রায় ৩০ শতাংশ বায়ুদূষণের জন্য আন্ত সীমান্ত বায়ুদূষণ দায়ী। এর সঙ্গে শিল্প-কারখানার বর্জ্য নিঃসরণ ও যানবাহনের কালো ধোঁয়া যুক্ত হয়ে ঢাকার বায়ুর মান আরো খারাপ করে। এদিকে বায়ুদূষণ রোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জরিমানা আদায় ও অবৈধ স্থাপনা বন্ধের অভিযান চলছে। কিন্তু সুফল মিলছে না। এ পরিস্থিতিতে ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৩৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী দূষণ সৃষ্টিকারী ও অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল (ইকোনমিক লাইফ) অতিক্রম করা গাড়ি সড়ক থেকে প্রত্যাহার করা, নির্মাণকাজ ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সৃষ্ট ধুলা এবং উন্মুক্তভাবে বর্জ্য পোড়ানো বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক অনলাইন স্ট্যাক নিঃসরণ পরিমাপের (সিইএমএস) আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন ও নিয়মিত নজরদারিই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বায়ুদূষণ বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। শুধু বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ মারা যায়। তবে অনেক দেশ বায়ুদূষণকে গুরুত্ব দিয়ে যথাযথ প্রকল্প গ্রহণ করছে, এতে তারা সুফলও পেয়েছে। আমরা মনে করি, বায়ুদূষণ রোধে বর্তমান সরকার যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করেছে সেগুলোর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন জরুরি। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ আন্তরিক হলে বায়ুদূষণ রোধে আমাদেরও সুফল আসবে। তবে সরকারকে কঠোর হতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জনসাধারণকেও দূষণ কমাতে সচেতন ভূমিকা নিতে হবে। সর্বোপরি সমন্বিত পদক্ষেপই পারে এই নীরব ঘাতকের কবল থেকে আমাদের রক্ষা করতে।