বাঁধন ইস্যুতে প্রতিবাদ-সমর্থনের পাশাপাশি দ্বৈত মানদণ্ডের প্রশ্ন

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক:

ইতালির মেস্ট্রেতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা চলছে। শিল্পী, শিক্ষক, রাজনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বাঁধনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বাংলাদেশে গত দুই বছরে ঘটে যাওয়া হেনস্তা ও মব-সহিংসতার বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রতিবাদ কেন সব সময় দেখা যায়নি।

বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাতে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় বাঁধন অভিযোগ করেন, মেস্ট্রেতে আওয়ামী লীগের কর্মী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তাকে হেনস্তা করেন। তার গায়ে পানি, কোকসহ বিভিন্ন পানীয় ছুড়ে মারা, ফোন ফেলে দেওয়া এবং কানের কাছে আঘাত করার অভিযোগও করেন তিনি। এ সময় তার ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও চার বছরের কম বয়সী একটি শিশু সঙ্গে ছিল। শিশুটি ভয় পেয়ে কাঁদছিল বলেও জানান অভিনেত্রী। তাকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে একটি বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নিয়ে অবস্থান করছেন বাঁধন। ঘটনার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সারজিস আলমসহ অনেকে তার প্রতি সংহতি জানান। অভিনয়শিল্পী জাকিয়া বারী মম, পিয়া জান্নাতুল, পরীমণি ও সাফা কবিরও নিন্দা জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন বলেন, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাঁধন এক অর্থে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার মতে, প্রতিশোধের রাজনীতি ও ‘টিট ফর ট্যাট’ সংস্কৃতি কারও জন্যই কল্যাণকর নয়।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশ মনে করছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দেশে নারীসহ বিভিন্ন মানুষ মবের শিকার হওয়ার সময়ও একইভাবে প্রতিবাদ হওয়া প্রয়োজন ছিল। তাদের প্রশ্ন, প্রতিবাদের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয় কি মানদণ্ড হবে?

চিত্রনায়ক সাইমন সাদিকও বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনেক শিল্পী মব-ভয়ের মধ্যে ছিলেন। সব মিলিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি প্রশ্ন—হেনস্তা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কি সবার ক্ষেত্রেই একই মানদণ্ডে হওয়া উচিত নয়?