স্পিকার বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে মশকরা করেছেন: নাহিদ

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে স্পিকার বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে মশকরা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পিকারের এ আচরণকে পক্ষপাতদুষ্ট ও অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ পাসের প্রতিবাদে অধিবেশন বর্জন করে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। বিরোধী দলের নেতারা এ ঘটনাকে সংসদের ইতিহাসে ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও স্পিকার তাকে কথা বলার অনুমতি দেননি। বরং বিষয়টি নিয়ে তিনি মশকরা করেছেন। স্পিকারের কাছ থেকে এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। তার মতে, এ ঘটনা অত্যন্ত হতাশাজনক।

তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে সরকার তাড়াহুড়া করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ সংসদে উত্থাপন ও পাস করেছে। প্রস্তাবিত আইন দুটিতে স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ রাখা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র নজিবুর রহমান। তিনি বিলটিকে কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থি বলে দাবি করেন। আইনমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসলামী বিধান সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না রেখেই বিষয়টি সংসদে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

নজিবুর রহমান আরও বলেন, স্পিকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রণয়নের পরিবর্তে সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আইনগুলো দুর্বল করে পাস করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পাশ হওয়া আইনগুলোকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে নজিবুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর ফলে মানুষের মানবাধিকার আরও সংকুচিত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে গুম ও হত্যার মতো ঘটনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।