মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরানের বিরুদ্ধে নয়: রাষ্ট্রদূত

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না তেহরান। একই সঙ্গে চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়েও ইরানের কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরান মক্কা শান্তি চুক্তিকে নিজেদের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ মনে করে না। বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নিয়েও তেহরানের উদ্বেগ নেই। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে ইরান অবগত এবং ঢাকার যেকোনো সিদ্ধান্তকে তেহরান ইতিবাচকভাবেই দেখে।

বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে জাহানাবাদি বলেন, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী তেহরান।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তাই বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর না করে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।

তার মতে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নিরাপত্তা সহযোগিতা আঞ্চলিক দেশগুলোর কৌশলগত স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এ ধরনের উদ্যোগকে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য হুমকি হিসেবে দেখে না।

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে সই করে। এতে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।