নিজ সংবাদ:
রাজধানীর গুলশানে ‘ঘুষ হিসেবে’ ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত থাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ শুনানির নতুন তারিখ আগামী বছরের ১১ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছেন।
আদালতের স্ট্রেনোগ্রাফার সোহানুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মোশাররফ হোসেনের আইনজীবী উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের বিষয়টি আদালতকে অবহিত করে শুনানি পেছানোর আবেদন করেন।
দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম জানান, মামলায় প্রথমে তিনজন আসামি ছিলেন। তাদের একজনের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পর সরদার মোশাররফ হোসেনও উচ্চ আদালত থেকে বিচারিক কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ পেয়েছেন। এ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে দুদক আপিল করবে বলেও জানান তিনি।
দুদকের প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই উচ্চ আদালত মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন।
ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে ‘ঘুষ’ হিসেবে ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল টিউলিপ সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান এবং সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলার পর শাহ মো. খসরুজ্জামান তদন্ত স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত তাঁর বিষয়ে তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে তাঁকে বাদ রেখেই বাকি দুই আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে দুদক। গত ১৩ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। টিউলিপ সিদ্দিককে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির পদক্ষেপ চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আবেদন করলে ২৬ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য গেজেটও প্রকাশ করা হয়।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশানের ওই জমির মূল মালিক ছিলেন তৎকালীন বিচারপতি ইমাম হোসেন চৌধুরী। ১৯৬৩ সালে তিনি প্রায় ১ বিঘা ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক জমির একটি প্লট বরাদ্দ পান। সরকারি লিজ চুক্তিতে ৯৯ বছরের মধ্যে জমিটি হস্তান্তর বা ভাগ করে বিক্রি নিষিদ্ধ ছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে আমমোক্তারনামার মাধ্যমে জমিটি হস্তান্তর ও বিভাজন করা হয়। পরে ওই জমিতে ভবন নির্মাণ করে ৩৬টি ফ্ল্যাট বিক্রি বা হস্তান্তর করা হয় বলে দুদকের অভিযোগ।
দুদক বলছে, রাজউকের তৎকালীন কয়েকজন আইন উপদেষ্টা দুই দফায় ‘অসত্য তথ্য’ দিয়ে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডকে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অনুমোদন দেন। যদিও জমিটির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। নিয়মবহির্ভূতভাবে প্লট বিভাজন ও ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অনুমোদন পেতে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, টিউলিপ সিদ্দিক ইস্টার্ন হাউজিংকে সুবিধা পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটিয়েছেন এবং এর বিনিময়ে ‘অবৈধ পারিতোষিক’ হিসেবে বিনামূল্যে একটি ফ্ল্যাট নিয়েছেন। এর প্রমাণ হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের একটি চিঠির কথা উল্লেখ করেছে দুদক, যেখানে ‘রিজওয়ানা সিদ্দিক টিউলিপ’-কে বিনামূল্যে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
টিউলিপ সিদ্দিক অবশ্য এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে প্রতিহিংসাবশত তাঁর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ মামলা করা হয়েছে।
এর আগে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির তিন মামলায় টিউলিপ সিদ্দিককে দুই বছর করে মোট ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
