বর্তমান জ্বালানি সংকট বিগত সরকারের উত্তরাধিকার: তিতুমীর

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

দেশের বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট গত ১৭ বছরের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তার মতে, অতীতে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কারণেই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অধীন ফাউন্ডেশনগুলোর ১৮০ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতি, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, সরকার জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ধীরে ধীরে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে চায়। আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন ফাউন্ডেশন দুই গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ছয় মাসে ৩০০টির বেশি ঝুলে থাকা নেট মিটারিং আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ খাতে ভোক্তাদের উৎপাদকে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বাজেটে বরাদ্দ করা দুই হাজার কোটি টাকা আইডকল ও বিআইএফএফএলের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হবে। এতে উৎপাদক ২০ শতাংশ, অ্যাগ্রিগেটর ২০ শতাংশ এবং সরকার ৬০ শতাংশ অর্থায়ন করবে। ঋণের সুদের হার ৬ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

জ্বালানি ব্যয়ের তুলনা করে তিতুমীর বলেন, গ্যাস দিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪ থেকে ৫ টাকা খরচ হলেও এলএনজি দিয়ে তা ৬৪ টাকা পর্যন্ত হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে ভর্তুকির চাপ কমিয়ে সেই অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা সম্ভব হবে।

ব্রিফিংয়ে তিনি পাঁচটি প্রধান কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদ্যুৎ গ্রাহকদের উৎপাদকে পরিণত করা, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা, সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে ড্যাশবোর্ড চালু করা।

স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তিতুমীর বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ খাতে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারভোগী হিসেবে নিবন্ধনের আওতায় এনে সারা জীবনের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে জাকাতের অর্থ ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠনের তিন ধাপে পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার ব্যবস্থা করেছে এবং ৪০টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ঋণ বিতরণ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া বিনিয়োগ বাড়াতে নীতির ধারাবাহিকতা, অনুমোদনের স্বচ্ছতা, অর্থায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সরকারের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য আইএমএফের পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করেই সরকার এগোচ্ছে।