কুষ্টিয়ায় শতাব্দী প্রাচীন রথযাত্রা

ভক্তি, আনন্দ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উৎসব

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

আফসানা ইসলাম পুষ্প \ হিন্দু পুরাণ অনুসারে শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামের স্মৃতি বিজড়িত রথযাত্রা কুষ্টিয়ায় পালিত হচ্ছে জাঁকজমকপূর্ণভাবে। ১৯০৫ সালে নলডাঙার রাজা প্রমথভূষণ দেবরায় শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউর মন্দিরে প্রথম রথযাত্রার প্রচলন করেন। সেই থেকে এটি কুষ্টিয়ার অন্যতম প্রধান লোকঐতিহ্য ও ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। এবারের রথযাত্রা উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়কে (এনএস রোড) জমজমাট মেলা বসেছে। গত বুধবার বিকেল থেকেই মেলায় ভিড় জমতে শুরু করে। বড়বাজার পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে সারি সারি দোকানে বিক্রি হচ্ছে নানা ধরনের পণ্য—মিষ্টান্ন, খই-খাগড়া, মাটির তৈজসপত্র, লেবুর রসের মেশিন, তামা-পিতলের জিনিসপত্রসহ নানা বাহারি সামগ্রী। ক্রেতা খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, “রথে বেড়াতে এসে বাসার জন্য লেবুর রসের মেশিন কিনেছি। খই ও মিষ্টান্নও নিয়ে যাব।” তামা-পিতলের ব্যবসায়ী নিতাই ঘোষ আশা প্রকাশ করে বলেন, “জগন্নাথ দেবের কৃপায় এবার ভালো বিক্রি হবে।” মল্লিকা রানী জানান, “মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। ঠাকুরের জন্য সন্ধ্যাপ্রদীপ ও তিলক কিনেছি। এই উৎসব আমাদের খুব ভালো লাগে।” শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী বলেন, “প্রতিবছর এ মেলা উপভোগ করি। মিষ্টান্ন ও মাটির জিনিস কিনেছি।” তবে মিষ্টান্ন বিক্রেতা আনন্দ কুমার কুন্ডু চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বলেন, “কয়েকজন বিভিন্ন অজুহাতে জোর করে টাকা নিচ্ছে। রশিদও দিচ্ছে না। গত বছর এমন হয়নি।” খই-খাগড়া বিক্রেতা কিশোর জোয়াদ আলী আশা করছেন দেড় লাখ টাকার মতো বিক্রি হবে। শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউর মন্দিরের সভাপতি বিজন কুমার কর্মকার বলেন, “কুষ্টিয়ার রথযাত্রায় হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই মিলেমিশে উৎসব পালন করে। এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। মুসলমান ভাইদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির।” রথযাত্রা ও মেলা কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রতি বছর নতুন করে জীবন্ত করে তোলে। ভক্তরা জগন্নাথদেবের কাছে পরিবার, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করছেন।