নিজ সংবাদ \ মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় কুষ্টিয়া জেলায় টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত আটদিন ধরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিতে জনজীবন, কৃষি ও নিম্নাঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কুমারখালী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে এ সময়ে প্রায় ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ থেকে ৯৭ শতাংশ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও এর তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। কুমারখালী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মামুনুর রশিদ বলেন, “চলতি মৌসুমে গত সোমবার সকাল ৯টায় সর্বোচ্চ ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। রবিবার থেকে সোমবার ২৪ ঘণ্টায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। প্রথম দিকে বজ্রপাত হলেও এখন তা কমেছে। তবে বজ্রপাতের সময় বাইরে না যাওয়াই নিরাপদ।” টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষি খাত। অনেক জমিতে পানি জমে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কুমারখালী শহরের কিছু এলাকায় পরিবারগুলো পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। কুমারখালী পৌরসভার বাসিন্দা শিরিনা খাতুন জানান, “বৃষ্টিতে উঠান ছাড়িয়ে ঘরের মেঝেতে পানি ঢুকে পড়েছে। সকাল থেকে পুরুষরা কাজে বের হতে পারছে না, বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। রান্না করতে পারিনি। বিগত ১০-১৫ বছরে এমন বৃষ্টি দেখিনি। পৌরসভা বা উপজেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।” কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়ার বাসিন্দা সাইফুজ্জামান সাবু বলেন, “রাস্তা ও ড্রেনের অবস্থা খুব খারাপ। পানিতে ডুবে যাওয়া রাস্তায় শিশুরা ড্রেনে পড়ে যাচ্ছে। এ দুর্ভোগ আর কতদিন চলবে জানি না।” কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষেতের জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শওকত হোসেন ভুঁইয়া বলেন, “ভেড়ামারা, খোকসা, কুমারখালী, দৌলতপুর ও সদর উপজেলার কিছু এলাকায় আউশ ধান, সবজি, তিল ও পাটের জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। মাঠকর্মীরা পর্যবেক্ষণ করছেন। ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কৃষকদের আবহাওয়া বুলেটিন জানানো হচ্ছে। বড় ক্ষতি হলে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” এদিকে অতিবৃষ্টিতে পদ্মা ও গড়াইসহ জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান জানিয়েছেন, “নদীর পানি এখনও বিপদসীমার চার মিটার নিচে রয়েছে। বিপদসীমা অতিক্রম করবে না বলে আশা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ভাঙনপ্রবণ এলাকা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভাঙন দেখা দিলে জিওব্যাগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয়রা কৃষক-শ্রমিকসহ সব শ্রেণির মানুষের ক্ষতি কমাতে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন। বৃষ্টির পরিস্থিতি শিগগির উন্নতির আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
