খোকসার শহর রক্ষা বাঁধে ধস, আতঙ্কিত এলাকাবাসী

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

খোকসা প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শহর রক্ষা বাঁধের কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান ঘাট এলাকায় প্রায় ৩০ মিটার অংশে আকস্মিকভাবে দেখা দিয়েছে ধস। এতে হুমকিতে পড়েছে কয়েকশত ঘরবাড়ি এবং বেশকিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, গত এপ্রিল মাসে প্রথম পাকা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। সেসময় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তাঁদের। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, খোকসা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের পিছন দিয়ে বয়ে গেছে গড়াই নদী। নদীপাড়ের বেশ খানেকটা অংশে পাকা বাঁধ রয়েছে। তারমধ্যে শ্মশানঘাট এলাকা দিয়ে পাকা ড্রেন দিয়ে নদীতে যাচ্ছে শহরের পানি। ওই ড্রেনের দুই পাশে প্রায় ৩০ মিটার অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিদর্শনে এসেছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, এপ্রিলের দিকেও ভেঙে গিছিলো। সাংবাদিকেরা ভিডিও করেছিলো। পরে অফিসার আসছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেননি। কয়েকদিনের বৃষ্টি হওয়ায় নিচে থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। আর ভাঙে যাচ্ছে। পৌরসভার বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন বলেন, গড়ায় নদী পাড়ে পৌরসভার যে ড্রেন তার সামনে ভাঙন ধরেছে। এতে কয়েক ঘরেবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হুমকিতে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তার। খোকসা পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক রিপন হোসেন, আমরা একটা সমাধান চাচ্ছি। সাধারণ মানুষ যাতে উপকৃত হয়। প্রশাসন যাতে দ্রুতই ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে ব্যবস্থা নেন। বড় ধরনের ক্ষতির আগেই প্রশাসন যেন কার্যকারী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই কামনা করছি। স্থানীয় এলাকাবাসী বলছেন, কয়েক টানা বৃষ্টির পানি শ্মশান ঘাট এলাকার ড্রেনেজ দিয়ে গড়াই নদীতে পতিত হওয়ায় ভেঙে যাচ্ছে বাঁধ। ফলে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আগেই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তাঁদের। উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মোছা. তাসনিম জাহান ভাঙন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুতই নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।