তরিকুল ইসলাম \ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নের হররা-মেটন কমিউনিটি ক্লিনিকে অস্বাস্থ্যকর বর্জ্য নিক্ষেপের ঘটনায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা। গতকাল সোমবার সকালে ঐ কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার মরিয়ম খাতুন ক্লিনিকের দরজার তালা খুলতেই এই নোংরা পরিবেশের চিত্র দেখতে পান। চিকিৎসাসেবার এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রটি এখন দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ক্লিনিকের প্রবেশপথসহ ভেতরে মানববর্জ্য ছড়িয়ে থাকায় স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকে সেবা নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, “ক্লিনিকের ভেতরে মল দিয়ে অপরিষ্কার করে রেখেছে। এটা দেখে খুব দুঃখ পেয়েছি। যেই করুক, শত্রুতাবশত করেছে।” আঞ্জেরা খাতুন বলেন, “এমন জঘন্য কাজ কীভাবে হয়, বুঝতে পারছি না। একমাত্র উপরওয়ালাই জানেন।” মুসলিমা খাতুনের ভাষায়, “এটা মোটেও ঠিক কাজ না। যে করেছে, তার মনে কী ছিল তা সে-ই জানে।” হানিফ শেখ বলেন, “গরিব মানুষ যেখান থেকে ঔষধ খেয়ে বেঁচে থাকে, সেখানে এমন নোংরামি করা খুবই জঘন্য।” কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার মরিয়ম খাতুন জানান, “রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা ক্লিনিকের ভেতরে মানববর্জ্য ছড়িয়ে দিয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। কোনো সুস্থ মানুষ এ কাজ করতে পারে না। দোষীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া উচিত।” স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ক্লিনিক পরিচালনায় অনিয়ম ও কমিটির অভ্যন্তরীণ ঝামেলা থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে। আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “আমার পরিবারের কেউ এখন আর ক্লিনিকে যায় না।” মজিবর রহমান বলেন, “ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। প্রমাণ পেলে দোষীর শাস্তি হওয়া উচিত।” কুষ্টিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ হোসেন জানান, “এই ক্লিনিক নিয়ে আগেও অভিযোগ এসেছে। কমিটির মধ্যে ঝামেলা চলছিল। এ ধরনের কাজ অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ। আমরা ইউএনওকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।” এলাকাবাসীর দাবি, ক্লিনিকের সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে জোরদার নজরদারি বাড়াতে হবে। দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা না নিলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
