আফসানা ইসলাম পুষ্প ॥ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরের পর কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে একযোগে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। কুষ্টিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, এবার কুষ্টিয়া জেলায় মোট ১১৬৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৪৮৭ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৬৮২ জন। এবারের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় জেলায় ৯ হাজার ৭৩৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। কুষ্টিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মফিজুল ইসলাম জানান, “চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ৬ হাজার ৩৬৫ জন পরীক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তন্মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। এ উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১২৭ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ২৩০ জন শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে”। বৃত্তি অর্জনের খবরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী তন্ময় জানায়, “এই ফলাফলের মাধ্যমে আমরা অনেক আনন্দিত হয়েছি। এই ফলাফলের পেছনে আমাদের বাবা-মা, শিক্ষক সকলেরই অবদান রয়েছে। ঈদের ছুটির মধ্যেও আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। তখন শিক্ষক-শিক্ষিকারা আমাদেরকে সহায়তা করেছেন”। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত স্নিগ্ধ পাল জানায়, “আমার খুব ভালো লাগছে। আমি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছি। আমি যেন ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে পারি”। বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রী শৈতি জানায়, “বৃত্তির ফলাফলে আমি অনেক আনন্দিত। আল্লাহ পাকের রহমতে আমার যতটুকু আশা ছিলো, তার চেয়ে ভালো ফলাফল পেয়েছি। কারণ ১ মাসের মধ্যে ৫ টা বিষয় পড়ে আবার রিভিশন দিয়ে প্রস্তুতি নেয়াটা এত সহজ ছিলো না”। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সাফওয়ান জানায়, “বৃত্তি পেয়ে আমি অনেক খুশি। আমার এই ভালো ফলাফলের পেছনে আমার বাবা-মা, শিক্ষকসহ সকলের অনেক অবদান রয়েছে”। হাসিব ড্রিম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মেজর (অব.) ডা. মোঃ নুরুল আমি হেলাল জানান, “আমার প্রতিষ্ঠান থেকে ২৮ জন বাচ্চা বৃত্তি পরীক্ষা দিয়েছিলো। তন্মধ্যে ১০ জন ট্যালেন্টপুলে ও ১১ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। এতে বাচ্চাদের চেষ্টার পাশাপাশি শিক্ষকদের ভূমিকা সর্বোচ্চ”। এডুকেয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান এমএইচ রাসেল জানান, “আমাদের স্কুল থেকে ৭ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১১ জন শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে”। শিক্ষার্থীদের এ সাফল্যে আনন্দিত অভিভাবক ও শিক্ষকরা মেধা বিকাশে বৃত্তি পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। ভালো ফলাফল জেলার কৃতি শিক্ষার্থীদের নতুন উদ্দীপনায় এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
