টানা বৃষ্টিতে কুষ্টিয়ায় ছাতার বাজার জমজমাট, দাম বৃদ্ধির অভিযোগ

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

 

নিজ সংবাদ ॥ টানা বৃষ্টিতে কুষ্টিয়ায় বেড়েছে ছাতার চাহিদা। দোকানে দোকানে ভিড় করছেন নানা বয়সী ক্রেতারা। এতে করে জমে উঠেছে ছাতার বাজার। আষাঢ়ের শেষ দিকে এসে টানা বৃষ্টিতে কুষ্টিয়া শহরের ছাতার বাজারে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। শহরের বিভিন্ন দোকানে ছাতা কিনতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। শুধু খুচরা ক্রেতাই নয়, বেড়েছে পাইকারদের আনাগোনাও। দোকানগুলোতে সরবরাহ নিতে আসছেন বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা। ছাতা বিক্রেতা সামিনা আক্তার জানান, “বৃষ্টিতে ছাতার বিক্রি ভালোই বৃদ্ধি পেয়েছে। সবরকম ছাতাই আমরা বিক্রি করছি, ৩৮০ টাকা থেকে দাম শুরু হচ্ছে”। ছাতার পাইকারী বিক্রেতা বিজয় জানান, “বৃষ্টিতে ছাতার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। সকাল থেকেই ছাতার বিক্রি অনেক বেশি। কারণ এই বৃষ্টির সময় ছাতা ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না”। পাংশা থেকে কুষ্টিয়ায় ছাতা কিনতে আসা এক পাইকারী ক্রেতা মনোয়ার হোসেন জানান, “গত বছরের তুলনায় এবছর আমার দোকানে ছাতার চাহিদা একটু বেশি। আমার আরও বেশ কিছু ছাতা দরকার ছিলো। পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকায় প্রয়োজনের তুলনায় কম ছাতা নিয়ে ফিরতে হচ্ছে”। দোকানিরা বলছেন, বর্ষার শুরুতে বৃষ্টিপাত কম থাকায় বিক্রি ছিল তুলনামূলক কম। তবে এখন টানা বৃষ্টিতে বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। খুচরা ক্রেতা শহিদুর রহমান বকুল জানান, “বৃষ্টির জন্য একটি ছাতা কিনলাম। তবে ছাতার দাম আগের চেয়ে বেশ কিছুটা বেশি”। পাইকারী ক্রেতা ইসমাইল মন্ডল জানান, “দোকানে ছাতা ফুরিয়ে গেছে। তাই আপাতত বিক্রির জন্য বাধ্য হয়ে দুটো ছাতা কিনেছি”। কুষ্টিয়া শহরে ছাতার চাহিদা মেটাতে গড়ে উঠেছে একাধিক কারখানা। ছাতা তৈরির কারিগর গণি মিয়া জানান, “বৃষ্টিতে ছাতার চাহিদা বেড়েছে। তাই আমার কাজও ভরপুর হচ্ছে। এতদিন একটু কম কাজ ছিলো, এখন কাজের চাপ বেশি”। আরেক কারিগর কাজল জানান, “কিছুদিন আগে আমাদের ডাল সিজন ছিলো। এখন বৃষ্টির ফলে কাজ বেড়েছে। যদি বৃষ্টি আরও বাড়ে তাহলে আমাদের কাজের চাপ আরও বাড়তে পারে”। টানা বর্ষায় ক্রেতা-বিক্রেতা ও কারিগরদের ব্যস্ততায় জমে উঠেছে কুষ্টিয়ার ছাতার বাজার। বর্ষা যত দীর্ঘ হবে, ছাতার চাহিদাও তত বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।