নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এক বৃদ্ধের মৃত্যুর পর হাসপাতালে তার কাটা পা খুঁজে না পাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পশ্চিম আব্দালপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসেম আলী ইজিবাইকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শুধু চামড়ায় ঝুলছিল। স্বজনরা তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা অপারেশন থিয়েটারে নেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর পর স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় বিচ্ছিন্ন পা খুঁজে পাননি। হাসেম আলীর ভাতিজা অভিযোগ করে জানান, এক নার্স তাদের বলেছেন যে তিনি ভুল করে কাটা পাটি ময়লা আবর্জনার মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। স্বজনরা হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও কিছু পাননি। অবশেষে পা ছাড়াই মরদেহ দাফন করতে বাধ্য হন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন। পশ্চিম আব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপন বলেন, “ইসিজি করার পর দেখা যায় পা দেহের সাথে নেই। পরে লাশ হস্তান্তরের সময় আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এটা হাসপাতালের অবহেলার ফল।” তবে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ইকবাল হাসান দাবি করেন, “মরদেহ হস্তান্তরের আগেই বিচ্ছিন্ন অংশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পা হারানোর কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।” কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এর আগেও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে শিশু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সমালোচনা চলছে। সচেতন মহল দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
