দৌলতপুরে গ্রীষ্মকালীন ‘মধুমালা’ তরমুজ চাষে ব্যাপক সাফল্য

মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়ীয়া ইউনিয়নের চামনাই গ্রামে উচ্চমূল্যের ফল গ্রীষ্মকালীন ‘মধুমালা’ জাতের তরমুজ চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এই উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক উৎসবমুখর পরিবেশে স্থানীয় চাষিদের নিয়ে এক বর্ণাঢ্য ‘মাঠ দিবস’ অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এই উচ্চমূল্য ফল উৎপাদন প্রদর্শনীর আয়োজন করে দৌলতপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কীভাবে লাভজনক উপায়ে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করা যায়, তা অন্য কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মোঃ শওকত হোসেন ভূঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রেহানা পারভীন। এ সময় অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আলী আহমেদ সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও ও সহকারী কর্মকর্তা বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মাঠ দিবসে স্থানীয় বিপুল সংখ্যক উৎসাহী কৃষক ও কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন। সফল কৃষক আরিফুর রহমানের তরমুজ ক্ষেতের চমৎকার ফলন এবং অর্থনৈতিক লাভ দেখে এলাকার অন্যান্য চাষিরাও আগামী মৌসুমে বাণিজ্যিকভাবে এই উচ্চমূল্যের গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্মকালীন এই ‘মধুমালা’ জাতের তরমুজ চাষ অত্যন্ত লাভজনক। চারা রোপণের মাত্র ৬০ দিনের মাথায় এই তরমুজ সংগ্রহ (হারভেস্ট) শুরু করা যায়। প্রতি বিঘা জমিতে এই তরমুজ চাষে বীজ, সার, মাচা তৈরি এবং শ্রমসহ মোট ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং উৎপাদন ভালো হলে উৎপাদিত তরমুজ ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। ফলে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে কৃষকেরা প্রতি বিঘা থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা নিট মুনাফা অর্জন করতে পারছেন। সফল চাষি আরিফুর রহমান বলেন- আগে আমি প্রথাগত ফসলের চাষ করতাম, যাতে পরিশ্রমের তুলনায় লাভ অনেক কম হতো। এবার উপজেলা কৃষি দপ্তরের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শে প্রথমবারের মতো গ্রীষ্মকালীন মধুমালা জাতের তরমুজ চাষ করেছি। মাত্র ৬০ দিনের মাথায় তরমুজ হারভেস্ট শুরু করতে পেরেছি। এ বছর আমি ২০ শতাংশ জমিতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু বর্তমান বাজার দর ও ফলন অনুযায়ী আশা করছি ৮৫ থেকে ৯০হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারব। অল্প সময়ে এত বেশি লাভ সত্যি ভাবা যায় না। কৃষি অফিসের নিয়মিত তদারকি ও সঠিক পরামর্শের কারণেই এই ভালো ফলন সম্ভব হয়েছে। প্রধান অতিথি কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস বলেন, “গ্রীষ্মকালীন তরমুজ অত্যন্ত লাভজনক এবং উচ্চমূল্যের একটি ফসল। টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষকদের প্রথাগত চাষাবাদের পাশাপাশি এই ধরণের অধিক লাভজনক ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করা। আরিফুর রহমানের মতো তরুণ ও পরিশ্রমী কৃষকদের এই সাফল্য গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। সভাপতির বক্তব্যে কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মোঃ শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, কুষ্টিয়া অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া এই জাতের তরমুজ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। কৃষি বিভাগের সঠিক দিকনির্দেশনা মেনে চললে যেকোনো কৃষকই এই চাষে সফল হতে পারেন। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রেহানা পারভীন জানান, উপজেলা কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি ও মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের কারণে এবার ফলন অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে এবং কৃষকেরা কোনো ধরনের ঝুঁকি ছাড়াই ভালো লাভ পাচ্ছেন।